12 12 18

বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - জেনে রাখুন - কুয়াশা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

কুয়াশা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

কুয়াশা থেকে বাঁচতে কী করবেনশীত আসছে মানেই ভোরবেলা আর সন্ধের দিকে কুয়াশার চাদর মুড়ে ফেলবে শহরকে। সেই সময় যাঁদের নিয়মিত পথে বেরোতে হয়, তাঁদের অনেকেই হাঁচি, কাশি, সর্দি ও ফুসফুসের নানা সমস্যায় কাবু হয়ে পড়েন। কিছুদিন আগে খাস রাজধানী দিল্লির দখল নিয়েছিল এমনই এক ভয়ানক কুয়াশা, তার ফলে বহু মানুষ অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন।

App DinajpurNews Gif

ডাক্তারদের বক্তব্য, এই কুয়াশায় ভাসমান দূষণ কণাগুলির মধ্যে কোনও কোনওটি আমাদের ফুসফুসের গভীরে সেঁধিয়ে যায় এবং তার ফলে নানা ধরনের অসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টই নয় কেবল, হতে পারে স্ট্রোক বা হার্টের অন্যান্য সমস্যাও, বিকল হতে পারে কিডনির মতো আবশ্যক অঙ্গও৷

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি৷ কিন্তু সকালবেলা যদি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে হয় বা বাড়ির বড়ো কেউ নিয়মিত মর্নিং ওয়াকে যাওয়ার অভ্যেস গড়ে তোলেন, তা হলে কী করবেন? কুয়াশায় মোড়া পথে না বেরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে থাকাটাই কি তবে ভবিতব্য?

সাম্প্রতিককালে ডাক্তাররা বলছেন, যাঁদের বয়স হয়েছে, ডায়াবেটিস আছে বা ক্রনিক শ্বাসের অসুখে ভোগেন, তাঁরা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নিন, বছরে একবার করে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক নেওয়াটাও বাধ্যতামূলক৷ এর ফলে বাড়বে আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা, অসুখের সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন৷

খাদ্যতালিকায় নজর দিন৷ প্রতিদিন প্রচুর জল খাওয়াটা বাধ্যতামূলক৷ শীতে অনেকেই জল খাওয়া কমিয়ে দেন, সেটা একেবারে ঠিক নয়৷ দরকারে হাতের কাছে ঈষদুষ্ণ জল রাখুন এবং মাধেমধ্যে চুমুক দিয়ে সেটা পান করুন৷ ফলের রস বা ডাবের জলও চলতে পারে৷ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল রাখুন৷

কারণটা আর কিছুই না, এগুলি শরীরের পক্ষে প্রয়োজনীয় মিনারেল ও ভিটামিনের জোগান দেয়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আর আয়রনও থাকা উচিত রোজের ডায়েটে৷ একেবারে তেল-ঘি-মাখন-মিষ্টিবর্জিত খাবার খাবেন না৷ রোজের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ঘি আর গুড়, তবে তা যেন মাত্রাছাড়া না হয়৷ দরকারে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন৷

শরীর ভিতর থেকে শক্তপোক্ত হলে আপনিও দূষণের সঙ্গে সহজে লড়াই করতে পারবেন৷ দূষণের সঙ্গে লড়াই করা এমনিই কঠিন, তার উপর অতিরিক্ত নিকোটিন আর তামাকসেবন আপনাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেবে৷ ধূমপানে রাশ টানুন৷ বাড়িতে যোগব্যায়াম অভ্যেস করুন, নিয়মিত প্রাণায়াম আপনার ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে৷

মাস্ক ব্যবহার করুন ভোর এবং সন্ধেবেলায় রাস্তায় বেরোতে হলে৷ বাড়িতে ফুসফুসের সমস্যায় ভোগা রোগী থাকলে এয়ার পিউরিফায়ার লাগাতে পারেন৷ রাস্তায় বেরনোর আগে স্মার্টফোনে একবার বাতাসের অবস্থাটা জেনে নিয়ে বেরোলেও সুবিধে হবে৷

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য