প্রচন্ড গোলাগুলি সম্মুখযুদ্ধ শেষে ঠাকুরগাঁও মুক্ত হয় আজমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাও: ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের এইদিনে শত্রুমুক্ত হলে মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষ ভোরে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন। শুরু হয়ে বিজয়ের উল্লাস।

আজ ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবসে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে মুক্তি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সকালে উদ্বোধন শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ফানুস ওড়ানো হবে বলেও জানান জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমর টিক্কু।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর জানান, নভেম্বরের শেষদিকে যৌথ অভিযানে পঞ্চগড় মুক্তিবাহিনীর দখলে এলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়।

এরপর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণ শুরু হয় ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে। মিত্রবাহিনী যেন ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে না পারে, সেজন্য পাকিস্তানি সেনারা ৩০ নভেম্বর ভূল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকার সর্বত্র, বিশেষ করে ইক্ষুখামারে মাইন পুঁতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভূল্লী ব্রিজের সংস্কার ও ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

১ ডিসেম্বর ভূল্লী ব্রিজ পার হলেও মিত্রবাহিনী যত্রতত্র মাইন থাকায় ঠাকুরগাঁও শহরে ঢুকতে পারেনি। ওই সময় শত্রুদের মাইনে দুইটি ট্যাংক ধ্বংস হয়ে যায়।

এরপর মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মাইন অপসারণ করে মিত্রবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

২ ডিসেম্বর শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ, সারারাত প্রচন্ড গোলাগুলির পর পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটে সৈয়দপুরে গিয়ে আশ্রয় নেয়, মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও মহকুমা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য