দিনাজপুর নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও যাচাই কাজ চলমানদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দেশের সর্ব বৃহৎ কয়লা ক্ষেত্র হিসাবে আবিস্কৃত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের অন্তর্গত দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্র অনুসন্ধান আর যাচাইয়ের মধ্যে দিয়েই প্রায় ২ যুগ সময় অতিবাহিত হতে চলেছে। এখনও সম্ভাবতা যাচাই কাজ চলমান রয়েছে। কতদিন পর ওই কয়লা ক্ষেত্র আলোর মূখ দেখবে বা আদৌ দেখবে কি না তা নিয়েই চলছে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা।

১৯৯৫ সালের ৪ জুলাই বাংলাদেশ ভ’তাত্বিক জরিপ অধিপ্তরের অনুসন্ধান দলের আবিস্কৃত ওই কয়লা ক্ষেত্রে কয়লা আবিস্কারের অনুষ্ঠানিক ঘোষনা করেছিলেন তৎকালীন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন। আবিস্কৃত উন্নত মানের বিটুমিনাস ওই কয়লার উপরিভাগে ৫৮.৮৪ মিটার(১১৯ ফুট) পুরুত্ব কাঁচ বালি ও ৩ মিটার(৯ ফুট) পুরুত্ব চীনা মাটির মজুতও আবিস্কৃত হয়েছিল।

কয়লার পাশাপাশি কাঁচ বালি ও চীনা মাটির মজুত আবিস্কার আরও অধিকতর সাফল্য বয়ে আনলো বলেও জানানো হয়েছিল। কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কারের পর তাদের ভাষায় দেশের সর্ব বৃহৎ কয়লা ক্ষেত্র হিসাবে বিবেচিত কয়লা ক্ষেত্র এলাকায় পেট্রোবাংলার একটি সাইন বোর্ড দেয়া হয়েছিল।

এরপর গত ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়নব্যুরো(বিএমডি) ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড(বিসিএমসিএল) এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।ওই চুক্তির পর কয়লা ক্ষেত্র এলাকায় সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ শুরু করা হয়।

সেই কাজের ফলাফল ভাল এবং সেখান থেকে অবশ্যই কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিসিএমসিএল এর উপ মহাব্যবস্থাপক(জিওলজি) এ কে এম বদরুল আলম মত পোষন করেছেন। গত ২৭ নভেম্বর তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিনিধির নিকট ওই মত পোষন করেন। দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্রে সম্ভাবতা যাচাই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ১ জানুয়ারী/১৭ থেকে ৩০ জুন/১৯ পর্যন্ত। এই সময়কালে কয়লা ক্ষেত্র এলাকায় মোট ৬০টি বোরিং করা হবে। ইতিমধ্যে (গত ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত) বোরিং হয়েছে ৩০টি এবং চলমান রয়েছে ৩টি বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

অনুমোদিত এস এস পি অনুযায়ী ওই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯৮৮.২০ লাখ টাকা। প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে মিবরাগ কনসালটেন্ট ইন্টারন্যাশনাল(জিএমবিএইচ)জার্মান, ফুগরো জার্মান(জিএমবিএইচ) ও আর পি এম লিঃ অষ্ট্রেলিয়া । সূত্র মতে দেশের অব্যাহত জ্বালানী চাহিদা মেটাতে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই কয়লা ক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হলে এখান থেকে বছরে ৩ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে। সব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুত, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের জ্বালানী বিভাগ দিঘীপাড়া কোল বেসিন এলাকার মোট কয়লার পরিমান নির্ণয় এবং বেসিনের কেন্দ্রীয় অংশে ভ’গর্ভস্থ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরে ৩ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন খনি উন্নয়নের জন্য বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান ও সম্ভাবতা যাচাইয়ের অনুমোদন দেয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য