তাইওয়ান প্রণালীতে ফের মার্কিন যুদ্ধজাহাজচীনের আপত্তি সত্বেও মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ফের তাইওয়ান প্রণালীকে তাদের যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক জলসীমাকে অবাধ ও মুক্ত রাখতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বুধবার জাহাজগুলো তাইওয়ান প্রণালী ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

এ নিয়ে চলতি বছর এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা ঘটল। আগের দুই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেও বুধবার তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বিষয়ে বেইজিংয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, জানিয়েছে রয়টার্স।

চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ওই জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধাজাহাজের উপস্থিতিকে পর্যবেক্ষকরা তাইপের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

বুধবার তাইওয়ান প্রণালী ব্যবহার করা জাহাজদুটি হচ্ছে- স্টকডেইল ডেস্ট্রয়ার ও রসদ সরবরাহকারী পেকোস।

“অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর কার্যকরে প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই তাইওয়ান প্রণালীতে এ মার্কিন জাহাজ। আন্তর্জাতিক আইন যেখানে যেখানে অনুমোদন করে, তার সর্বত্র উড্ডয়ন, নৌ-চলাচল ও অভিযান অব্যাহত রাখবে মার্কিন নৌবাহিনী,” বুধবার এক বিবৃতিতে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিট।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তাইওয়ান প্রণাণী অতিক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাইপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও। মার্কিন জাহাজের এ যাত্রাকে আন্তর্জাতিক জলসীমার স্বাভাবিক ব্যবহার হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে তারা। জাহাজ দুটির চলাচল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তাইওয়ানের বাহিনী।

চলতি সপ্তাহের শেষদিকে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনের আগে এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলও বেশ বিচলিত। শিল্পোন্নত দেশগুলোর এ সম্মেলনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলোই আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে, যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে যাচ্ছে বেইজিং। কেবল ২০১০ সালের পর থেকে ওয়াশিংটন তাইপের কাছে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসার পর থেকে তাইওয়ানের ওপর নানামুখী চাপও বাড়িয়ে চলছেন। তার ‘এক চীন’ বিদেশনীতির কারণে এরই মধ্যে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেওয়া অনেকগুলো দেশ পক্ষ বদলে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কও গড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য