মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নিকারাগুয়ার ভাইস প্রেসিডেন্টের ওপরদুর্নীতি ও মানবাধিকার লংঘনের দায়ে নিকারাগুয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রোসারিও মুরিলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মুরিলো দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল ওর্তেগার স্ত্রী। ক্ষমতাসীন সান্দিনিস্তা লিবারেশন ফ্রন্টের যুব সংগঠন ও পুলিশের ওপর তার ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ আছে বলেও ধারণা করা হয়।

মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ওর্তেগা-মুরেলো দম্পতির নিরাপত্তা উপদেষ্টা নেস্তর মনকাডা লোউ-র ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।

নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিকারাগুয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লোউ-র সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেনে জড়াতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে এ দুজনের কোনো অর্থ-সম্পত্তি থাকলেও তাও জব্দ হবে।

মুরিলো ও তার স্বামী দশককালেরও বেশি সময় ধরে মধ্য আমেরিকার দেশটির শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও সান্দিনিস্তা লিবারেশন ফ্রন্টের কার্যক্রম নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা লুকায়নি। দলটির যুবসংগঠনের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিরোধীদের নির্যাতন ও অপহরণেরও অভিযোগ আছে।

মঙ্গলবারের বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, নিকারাগুয়ার গণতন্ত্রকে অবজ্ঞা করার দায়ে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টে মুরিলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ীই নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর লোউ-র নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ওর্তেগা সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া কয়েক মাসের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকা রাখায়।

নিকারাগুয়ার এ নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ওর্তেগার সিদ্ধান্তের পাল্টায় এপ্রিলে সরকারবিরোধী ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভ দমাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শতাধিক মৃত্যুর খবর আসে।

নিকারাগুয়ার বিরোধীদলীয় কর্মী ফেলিক্স মারাদিয়াগা চলতি মাসের শুরুর দিকে তার দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

মৃত্যুর হুমকি পাওয়া মারাদিয়াগা এ বছরের জুলাইতে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন, জানিয়েছে বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য