পুতিনের সঙ্গে বৈঠক ‘বাতিল করতে পারেন’ ট্রাম্পমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেইন নিয়ে সাম্প্রতিক সংকটের কারণে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিলও করে দিতে পারেন।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে এ দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

এতে পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর উত্তরোত্তর উত্তেজনা বৃদ্ধি, অস্ত্র চুক্তি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেইন ইস্যু নিয়ে কথা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

রোববার ইউক্রেইনের তিনটি জাহাজের দিকে রুশ বাহিনীর ছোড়া গুলি ও সেগুলো জব্দের ঘটনায় ওয়াশিংটন এখন বৈঠকটি বাতিলের চিন্তাভাবনা করছে, জানিয়েছে বিবিসি।

মঙ্গলবার ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, তিনি ক্রিমিয়া উপকূলের কাছে রোববারের ঘটনার ‘পূর্ণাঙ্গ বিবরণের’ অপেক্ষা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা দল এ প্রতিবেদন দেবে; যার ওপর ভর করেই বৈঠকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

“সম্ভবত আমার সঙ্গে তার (পুতিন) বৈঠক হবে না। হয়তো আমিই আর করতে চাইবো না। আমি আগ্রাসন পছন্দ করি না। আমি কোনোভাবেই আগ্রাসন চাই না,” বলেন তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত বলেন, তার দেশ রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেখতে চায়।

ওয়াশিংটন ইউরোপীয় দেশগুলোকে ইউক্রেইনের সহায়তায় আরও বেশি কিছু করারও আহ্বান জানিয়েছে।

অবৈধভাবে জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগ তুলে রোববার রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেইনের দুইটি গানবোট এবং একটি টাগবোট জব্দ করে।

এ ঘটনায় কিয়েভ মস্কোর বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনের; অভিযোগ তুললেও ক্রেমলিন বলছে, আগে থেকে না জানিয়ে তাদের জলসীমায় গানবোট পাঠিয়ে ইউক্রেইন ইচ্ছা করেই ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি’ করেছে।

রুশ নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি পরদিন জানায়, তাদের সীমান্ত টহল বোটগুলো ইউক্রেইন নৌবাহিনীর জাহাজ জব্দ এবং সেগুলো থামাতে অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

ইউক্রেইনের ২৪ নাগরিককে আটক এবং আহত তিন নাবিকের চিকিৎসারও খবর দেয় তারা।

ক্রিমিয়ার একটি আদালত পরে আটক ১২ জনকে ৬০ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেয়। বুধবার বাকিদের বিষয়েও রায় জানা যাবে।

এফএসবি আটক কয়েকজনের বিবৃতির ভিডিও রেকর্ডিংও প্রকাশ করেছে। এসব ভিডিওতে ইউক্রেইনের নাবিকরা জানান, তারা রুশ জলসীমায় জাহাজ পাঠিয়ে ‘উসকানি সৃষ্টিতে’ কিয়েভের পদক্ষেপ সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

জাহাজগুলোতে যে গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ-র সদস্যরাও ছিলেন তাও স্বীকার করে নিয়েছে ইউক্রেইন।

“এটা ছিল রুটিন কাউন্টার ইন্টিলিজেন্স মিশনের অংশ, রুশ নৌবাহিনী যা প্রতিনিয়তই করে,” বলেছেন এসবিইউর প্রধান ভাসিল রিতসাক।

এদিকে সোমবার রাতে ইউক্রেইনের পার্লামেন্ট ১০ সীমান্ত এলাকায় ৩০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারিতে প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরেশেঙ্কোর আদেশে অনুমোদন দেয়।

পোরেশেঙ্কো পরে জানান, রাশিয়ার সঙ্গে একটি ‘পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের’ আশঙ্কাও করছেন তিনি।

“আমাদের সীমান্তের কাছে অবস্থিত রুশ ঘাঁটিগুলোতে তাদের ট্যাঙ্কের সংখ্যা অন্তত তিনগুণ বেড়েছে,” বলেছেন তিনি।

ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ ও ২০১৪ সালে ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি এলাকায় মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই শুরুর পর থেকেই দেশদুটির মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

চলতি বছর কের্চ প্রণালীর উপর দিয়ে বানানো ক্রিমিয়া-রাশিয়া সংযোগ সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।

রোববারের ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও। ইউক্রেইনের জাহাজ জব্দকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য বলছে, রাশিয়া ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল এবং ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেইনের সার্বভৌমত্বের অধিকার খর্ব করছে।

কের্চ প্রণালীর ঘটনা নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলও।

কথোপকথনে পুতিন ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে রুশ সমুদ্রসীমায় শান্তিপূর্ণ চলাচলের নিয়মনীতি ইচ্ছাকৃতভাবে লংঘনের অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

অন্যদিকে মার্কেল সংকট মোকাবেলায় উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন বলে তার এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য