বাল্য বিবাহ্ প্রতিরোধে হেড মেস্টারের অভিনব উদ্যোগদিনাজপুর শহরের ঈদগাহ্ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফজলুর রহমান। তাঁর অভিনব উদ্যোগে বন্ধ হয়েছে ৩০টিরও অধিক বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ্ প্রতিরোধে এই প্রধান শিক্ষক নিরোলস শ্রম দিয়ে সফলতা পেয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বাল্যবিবাহ্ প্রতিরোধে সচ্চার ফজলুর রহমান।

প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান এর অভিনব বাল্য বিবাহ্ প্রতিরোধ কার্যক্রম বয়ে এনেছে নতুনত্ব। প্রতিদিনই একজন করে শিক্ষার্থীর বায়োডাটা, ক্লাশের পারফমেন্স,্ উপস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিকেলে হাজির হোন শিক্ষার্থীদের বাসায়। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন নিজে হাজির হয়ে। প্রধান শিক্ষককে নিজের বাসায় পেয়ে উচ্ছাসিত হোন শিক্ষার্থী আর অভিভাবকেরা।

পড়াশোনার নির্দেশনার মাঝে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের বুঝিয়ে আসেন বাল্যবিবাহ্ এর কুফল এবং আইনী নিষেধাজ্ঞার কথা। ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর বাসায় যেয়ে যেয়ে বাল্যবিবাহ্ প্রতিরোধের এই উদ্যোগের কারণে বন্ধ হয়েছে অসংখ্য বাল্য বিবাহ। শিক্ষার্থীদের মাঝে অধিক জনপ্রিয় এই শিক্ষক এর পাশাপাশি স্কুলে চালু করেছেন মিড ডে মিল্ক। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সমন্বয় করে প্রতিদিনই ছয় শত শিক্ষার্থীদের টিফিনের আয়োজন চলে।

দীর্ঘ ২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে ঈদগাহ্ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে রয়েছেন ২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে। সৃষ্টিশীল চেতনার এই শিক্ষকের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরাও বেশ উ..সাহী। ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা জানান, স্যার আসবেন সেই প্রতিক্ষায় কাটে প্রতিটি বিকেল। হঠা.. স্যার এসে হাজির হলেন আমার বাসায়। আমি বেশ উচ্ছাসিত হয়েছি। স্যার আমার বাবা মাকে আমার পড়াশোনার বিষয়ে জানান। বাল্যবিবাহ্ যেন না দেয়া হয় সে বিষয়ে আমার বাবা-মাকে ভালো ভাবে বুঝান হেড স্যার।

স্কুলে ক্লাশ ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের কাছে জানাগেলো, প্রায় সবারই বাসায় স্যার গিয়েছেন। দু’এক জনের বাসায় এখনো যাওয়া হয়নী তাই তারা মন ভার করে থাকে। কিন্তু প্রতিটি বিকেলে স্যার তাদের বাসাতেও পৌঁছান। প্রধান শিক্ষক মো: ফজলুর রহমান জানান, স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় আসার পর দেখেছি অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহ্রে কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে গেছে। বিষয়টি আমাকে ভিষণ নাড়া দিতো। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ থাকার পরেও বন্ধ করা যেন দু:সাধ্য শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ্।

তাই শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে। তারা যেন নিয়মিত স্কুলে আসে, পাড়াশোনায় ভালো করতে পারে সে বিষয়টি সামনে রেখে তাদের বাল্যবিবাহ্ প্রতিরোধে প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাসায় যেয়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিবাহ কুফল এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরে নিয়মিত স্কুলে আসার বিষয়ে কথা বলি। এরই ধারাবাহিকতায় স্কুলে উপস্থিতি বেড়েছে রেকর্ড সংখ্যক। শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে স্কুলটির বাল্যবিবাহ্ ।

ঈদগাহ্ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফজলুর রহমান পেয়েছেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক ইয়াং সোস্যাল অব সোস্যিয়াল ইন্টারপিরিয়নার এওয়্যার্ড ২০১৮। দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিস প্রদান করেছেন বিশেষ সম্মাননা। প্রধান শিক্ষকের বাল্যবিবাহ্ প্রতিরোধের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে দিনাজপুরের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তথ্য ও চিত্র সংগ্রহেঃ-
মো: মোসাদ্দেক হোসেন

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য