যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আছে আইনজীবীইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে চাইলেই ইংল্যান্ড সরে আসতে পারে বলে ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছে স্কটল্যান্ডের আইনজীবীরা। দেশটির রাজনীতিবিদদের হয়ে লড়াই করা এই আইনজীবীরা ইউরোপীয় কোর্ট জাস্টিসকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।

গত সপ্তাহে ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া প্রকাশ করার পর থেকেই চুক্তির পক্ষে ভোট দেওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে লেবার পার্টি, লিব ডিমস, এসএনপি, ডিইউপি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টিরও অনেক নেতা এই চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন রবিবার বলেছেন, তার দল পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেবে। তিনি এই চুক্তিকে আলোচনার একটি করুণ ব্যর্থ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘এটা আমাদের সারাবিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রাখবে’।

আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ১১ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে এটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। স্কটিশ রাজনীতিবিদের পক্ষে আইনজীবী এইডান ও নিল বলেন, সবাই একমত যে সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদ বাতিল করা সম্ভব। তবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে যে শুধুমাত্র বকি ২৭ দেশের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই এটি করা সম্ভব।

ব্রিটিশ সরকার আদালতের এই শুনানি বন্ধের চেষ্টা করেছিলো। তাদের দাবি, এটার কোনও প্রয়োজন নেই কারণ সরকারের কোনও মন্ত্রীরই এখান থেকে ফিরে আসার কোনও ইচ্ছা নেই। দ্বিতীয় গণভোটের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন থেরেসা মে।

তবে ও নিল বলেন, আবেদনকারীদের যুক্তি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মৌলিক গঠন অনুসারেই সদস্য রাষ্ট্রগুলো কারও বের হয়ে যাওয়া রদ করতে পারে। তিনি বলেন, পার্লামেন্টে ভোটের আগে এই বিষয়গুলো সবার জানা জরুরি।

থেরেসা মে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তার বিল পাশ না হলে ব্রেক্সিটই থেমে যেতে পারে। ইউরোপীয় কোর্ট অব জাস্টিস যদি এখন ঘোষণা দেয় যে ব্রেক্সিট থেকে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের সামনে নতুন এক ‍সুযোগ আসতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনও সদস্য রাষ্ট্র বের হয়ে যেতে চায় তবে তাদের দুই বছর সময় লাগবে। আর ইউরোপীয় কাউন্সিলের সবাই একমত হলে এই সময় আরও বাড়তে পারে।

তবে কোনও দেশ পরে অবস্থান থেকে সরে আসতে চাইলে কি হবে সেটা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।৬০ বছরের পুরোনো এই ব্লক থেকে েএখনও কোনও রাষ্ট্র বের হয়ে যায়নি।

স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতা জোয়ানা চেরি বলেন, থেরেসা মে সবাইকে তার চুক্তিতে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাধ্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে এছাড়া আর কোনও পথ নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য