অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিষ্কার করছে না যুক্তরাষ্ট্রদুনিয়াজুড়ে সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কিংবা না আনার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে চলতি বছরই অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ গঠন করা হয়।

গত আগস্টে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া জেলা আদালতে এই অভিযোগ গঠন করা হলেও তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। সম্প্রতি ভুল করে এ সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করে ফেলেন প্রসিকিউটররা। তবে এতে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানা যায়নি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন অ্যাসাঞ্জের সমর্থকরা। তবে এর একদিন আগে সোমবার স্পর্শকাতর এ গোয়েন্দা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান গোপন রাখার কথা বলা হয়।

প্রকাশ হয়ে পড়া নথিতে দেখা গেছে, অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত অভিযোগ গোপন রাখতে চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। বলা হয়েছে, গ্রেফতার বা প্রত্যাবাসন যেন এড়াতে না পারেন সে কারণে এটা গুরুত্বপূর্ণ। নথিতে বলা হয়েছে, আসামির স্পর্শকাতরতা এবং এই মামলা ঘিরে চলা প্রচারণার কারণে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি গোপন রাখা প্রয়োজন।

কোন মামলায় অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনও কিছু জানা না গেলেও এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আলেকজান্দ্রিয়ার প্রসিকিউটরেরা উইকিলিকস ও এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত চালাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যেই অ্যাসাঞ্জের কঠোর বিচারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

অ্যাসাঞ্জ ও তার সমর্থকেরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে গোপনে অপরাধের অভিযোগ দাখিল করে আসছে। তবে কিছুদিন আগ পর্যন্তও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

যৌন নিপীড়নের মামলায় যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে প্রত্যাবাসনের মুখোমুখি হয়ে ছয় বছর আগে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। প্রথমে সেখানে তাকে অতিথি হিসেবে স্বাগাত জানানো হলেও দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রটির সরকার পরিবর্তনের পর অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে আচরণের পরিবর্তন ঘটে। গত মার্চের পর থেকে তাকে বাইরে বের করে দিতে বিভিন্ন চেষ্টা হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয় অ্যাসাঞ্জের ইন্টারনেট সংযোগ। সূত্র: এবিসি নিউজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য