ঠাকুরগাঁওয়ে জমিতে মুলার স্তুপ ক্রেতা নেই হতাশ কৃষকমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার কৃষক কুদ্দুস আলী জানান, মুলা ফলানোর জন্য অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার জমিতে হালচাষ করতে হয়।

তিনি আরো বলেন হালচাষের পর নিড়ানি লাগে। আরও লাগে সেচ ও সার। এবার তিনি পাঁচ একর জমিতে মুলা লাগিয়েছিলেন। কিন্তু দাম নেই বলে সেই মুলা আর জমি থেকে তোলেননি। ঠাকুরগাঁওয়ে শীতকালীন এই সবজি চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তার মতো অসংখ্য কৃষক। চার কেজি মুলা এখন তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে এক টাকা দরে।

জমিতে মুলা রেখেই কৃষক কুদ্দুস আবারও সেই জমিতে হালচাষ দিচ্ছেন নতুন ফসল ফলাবেন বলে। দাম না পাওয়ার ক্ষোভে কষ্টের ফসল তিনি ট্রাক্টর দিয়ে মাটিতেই মিশিয়ে দিচ্ছেন। অন্য মুলাচাষিরাও একই কাজ করছেন। কৃষক কুদ্দুস আলী জানালেন, এবার পাঁচ একর জমিতে মুলা চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। সে টাকার আশা তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন নতুন করে জমি চাষ দিচ্ছেন আলু লাগানোর জন্য।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার ২৫০ হেক্টর। এরই মধ্যে তিন হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। যেখানে ৫০০ হেক্টর জমিতে শুধু মুলা চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরগাও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কাতিহার, জোনগাঁও, রাতোর, মিরডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার কানধাল, বহোতি, জাদুরানী, চেকপোস্ট ও পীরগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর,জাবরহাট,নাসিরগঞ্জসহ সদর উপজেলার বিমানবন্দর, গিলাবাড়ী, মরিচপাড়া এলাকায় মুলার ক্রেতা পাচ্ছেন না কৃষকরা। এ জন্য তারা মুলাসহ জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন।

রানীশংকৈল এলাকার কৃষক মোঃ হাসান জানান, এক একর জমিতে মুলা চাষ করেছেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রথমদিকে দামও কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু এখন বাজারে দুই কেজি মুলা এক টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এক বস্তা (৬০ কেজি) বাছাই করা মুলার দাম বলছেন ৪০/৫০ টাকা। শ্রমিকদের পেছনেই এই টাকা খরচ হয়ে যাবে। হাতে আর কিছুই থাকবে না।

ঠাকুরগাঁও রোড বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী হেলাল জানান, কয়েক দিন আগেও মুলার দাম ভালো ছিল। কিন্তু অন্য জেলায় চাহিদা না থাকায় হঠাৎ দাম কমে গেছে। শুধু মুলা নয়, সব সবজির দামই কম।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য শীতকালীন সবজি বাজারে আসায় মুলার দাম কম পাচ্ছেন কৃষক। তবে পরিকল্পনা করে চাহিদা অনুযায়ী সবজির চাষ করলে কৃষক লাভবান হতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য