সৈয়দপুরে রেল লাইন ঘেষে গরম কাপড়ের ব্যবসা মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ২ নং রেল ঘুমটি থেকে ১ নং রেল ঘুমটি পর্যন্ত রেল লাইন ঘেষে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় বসছে গরম কাপড়ের দোকান। এসব দোকানে দিন রাত ভীড় জমছে ক্রেতাদের। এর ফলে ট্রেন চলাচলের প্রধান লাইনটিতে প্রতিনিয়ত ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট অবস্থান থাকায় যে কোন মূহুর্তে দূর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে ট্রেন যাতায়াতের সময়ও লাইন থেকে ক্রেতাদের ভীড় সরানো দূরহ হয়ে পড়ে। অনেক সময় ট্রেন আসতে দেখে বিক্রেতারা সম্মিলিতভাবে চিৎকার করে ক্রেতাদের লাইন থেকে সরতে বলায় হঠাৎ ক্রেতাদের মধ্যে হুড়াহুড়ি শুরু হয়। এতে অনেকে রেল লাইনের উপর পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

রাতের বেলা এ পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। এর ফলে বড় ধরণের প্রাণহানীকর দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ ও পিডাব্লু কে ম্যানেজ করে একটি চক্র এ দোকানগুলো বসিয়ে বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

প্রায় প্রতিদিনই দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ কারণে বিক্রেতাদের মধ্যে রেল লাইনে দোকান বসানোর আইনী বাধা থাকা না থাকা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নাই।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এমদাদুল হক এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, রেল লাইনের উপর দোকান বসানো ঠিক না।

তবে এ ঘটনা এবারই প্রথম বা সৈয়দপুরেই একমাত্র নয়। তিনি সান্তাহার, বগুড়া, জয়পুরহাট, পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন গরম কাপড় তথা পুরাতন কাপড়ের দোকান বসার উদাহরণ টেনে বলেন, এসব দোকান সরানোর দায়িত্ব মূলত: পিডাব্লু’র। তারা প্রয়োজনে সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এককভাবে জিআরপি পুলিশ দোকান উচ্ছেদে নামলে হিতে বিপরিত হতে পারে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

এপিডাব্লু সৈয়দপুর মো: সুলতান মৃধা জানান, রেল লাইনে দোকান বসানোর বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের। কিছুদিন আগে এসব উচ্ছেদ করা হয়েছে। আবারও যদি দোকান বসানো হয় তাহলে আজই জিআরপি’র ওসিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য