অযোধ্যায় লাখো রামভক্ত, কড়া নিরাপত্তারামমন্দির নির্মাণের দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ‘ধর্ম সংসদে’ যোগ দিতে লাখ লাখ হিন্দু পুণ্যার্থী ও ভক্ত অযোধ্যায় জড়ো হয়েছেন।

সহিংসতার আশঙ্কায় উত্তর প্রদেশের সরকার শহরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) অযোধ্যার যেখানে রোববারের কর্মসূচিটি করবে তার কাছেই এক সময় যোড়শ শতকে নির্মিত বিখ্যাত স্থাপনা বাবরি মসজিদ ছিল।

১৯৯২ সালে ওই মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করেই ভারতজুড়ে শুরু হয়েছিল রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। ৪৭’র দেশভাগের পর হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ভিএইচপির ধর্মসভাকে ঘিরে সপ্তাহখানেক ধরেই অযোধ্যার পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত। এরই মধ্যে শহরটিতে ৯০০ অতিরিক্ত পুলিশ, আধাসামরিক ও কমান্ডো বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে উত্তর প্রদেশ পুলিশের মুখপাত্র বিবেক ত্রিপাঠি জানিয়েছেন।

“সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়েও আমরা পুরো শহরটি পর্যবেক্ষণ করছি,” বলেছেন তিনি।

আগামী বছরের মে মাসে হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের এ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

ভিএইচপির এ কর্মসূচিতে শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও থাকবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। শনিবার অযোধ্যাতে শিবসেনার আরতি ও প্রার্থনা কর্মসূচিতে ছিলেন উদ্ধব।

নির্বাচনকে কাজে লাগিয়ে শিবসেনা ও ভিএইচপি ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে রামমন্দির নির্মাণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ চাইছে।

কট্টরপন্থি হিন্দুদের মতে, ১৫২৮ সালে অযোধ্যার যেখানে বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল, সেখানে আগে থেকেই যুদ্ধদেবতা রামের নামে একটি মন্দির ছিল।

“মসজিদটি ছিল হিন্দুদের জন্য অসম্মানের। হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোর একটিতে আমরা যে এখনো মন্দির বানাতে পারিনি তা খুবই লজ্জাজনক,” বলেছেন ভিএইচপির মুখপাত্র শারদ শর্মা।

হিন্দুরা অধৈর্য হয়ে পড়ছে, মন্দির বানানোর সময় চলে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এ নেতা জানান, রোববারের কর্মসূচির পর দিল্লিতে আরও বড় জমায়েতের ডাক দেওয়া হবে।

কট্টরপন্থি এ সংগঠনটি বলেছে, ‘যুদ্ধের আগে’ এটিই শেষ দামামা। এরপরও সরকার তারিখ না জানালে তারা নিজ উদ্যোগে রামমন্দির বানানোর কাজে হাত দেবেন।

শিবসেনা ও ভিএইচপির কর্মসূচি ঘিরে শহরটিতে তুমুল উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। সংখ্যালঘু মুসমানেরা আছেন আতঙ্কে। ভয়ে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও দাবি স্থানীয় সংগঠনগুলোর।

এ কর্মসূচি মোটেও রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার লক্ষ্য থেকে ঠিক করা হয়নি, বলছে তারা।

“কেন্দ্রীয় সরকার এখনও গভীর নিদ্রায়। আমরা কুম্ভকর্ণকে জাগিয়ে তুলতে চাই। বলতে চাই, ঢের হয়েছে, এবার জাগো। শুধু ভোট এলেই তোমাদের রামের কথা মনে পড়ে। কিন্তু আমরা রাম আর মন্দির নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। কেবল মন্দিরই চাই,” দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে এমনটা বলেছে শিবসেনাও।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য