বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ জাতীয় সংসদের একাদশ নির্বাচনে দিনাজপুরে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৬।

অন্য ৫টি আসনের চেয়ে এ আসনটি বড়। এ আসনে রয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান ও সীতার কোর্ট। হাকিমপুর উপজেলায় হিলি স্থলবন্দর। ঘোড়াঘাট উপজেলায় রয়েছে প্রাচীণ নিদর্শন সুজা মসজিদ এবং বিরামপুরে রয়েছে কৃষি অর্থনীতি নির্ভরশীল গড়ে উঠেছে চা বাগান।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক আলোচনা। সন্ধ্যা নেমে এলেই মহল্লার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, চা স্টলে, দোকানপাটে চলছে কে কে পাচ্ছেন দিনাজপুর-৬ আসনের টিকিট। এ যেন নির্বাচনে একটি উৎসবে মেতে উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটাররা।

জোট বা মহাজোট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমানে সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক চৌধুরী, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আমির হোসেন, এ্যাড. আব্দুল হাকিম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর আলম সবুজ।

হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত।

ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মাসউদুর রহমান চৌধুরী লাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাফে শাহান শাহ্, মহিলা আওয়ামীলীগের নেতৃী সুলতানা আকতার বর্ষা।

এছাড়াও ন্যাপ মোজাফফর অংশের সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. কাজী আবু জাফর মোঃ লুৎফর রহমান।

দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলতাফুজ্জামান মিতা, বিরামপুর আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম রাজু, উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ কবীর, বিরামপুর পৌরসভা মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আক্কাস আলী, যুব মহিলালীগের নেতৃী শাহানাজ বেগম শানু ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ড্যাব’র মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মকবুলার রহমান গোর্কি, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ডাঃ খন্দকার মশিউর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলার বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এজেএম শাহাবুদ্দিন সুজন।

বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদুল ইসলাম আজাদ, পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মিয়া মোঃ শফিকুল আলম মামুন।

হাকিমপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম মন্ডল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রেজাউল করিম। ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোঃ শামিম হোসেন চৌধুরী, এ্যাড. নূরনবী হোসেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জেলা সাংস্কৃতিক পার্টির সহ-সভাপতি ও বিরামপুর জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম তৌফিক আজম।

জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তুলেছেন দিনাজপুর দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক আমির আনোয়ারুল ইসলাম।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম’র সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য, বিরামপুর উপজেলার আহ্বায়ক এবং জেলা কমিটির সমন্বয়ক মুসলীমলীগ গণঐক্যে এনডিএম মনোনীত প্রার্থী মোজাহিদুল ইসলাম মানিক।

পূর্ব পাকিস্তানের সময় থেকে সত্তর সালে এমএনএ নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন ১৯৭০ সালে এবং প্রাদেশিক সংসদ নির্বাচনে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কাজী আব্দুল মজিদ চৌধুরী ১৯৭০ সালে।

১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে জয়লাভ করেন এ্যাড. আব্দুল লতিফ মিয়া।
১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপি থেকে অধ্যক্ষ আতিউর রহমান।

১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল আওয়ামীলীগ পার্টি ন্যাপ ‘মোজাফফর’ কুড়েঘর প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন এ্যাড. কাজী আবু জাফর মোঃ লুৎফুর চৌধুরী।

১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে জয়লাভ করেন আব্দুস সাত্তার চৌধুরী।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে জয়লাভ করেন মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী।

১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে জয়লাভ করেন অধ্যক্ষ আতিউর রহমান।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে জয়লাভ করেন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে জয়লাভ করেন মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাইকোর্টে রীটের মাধ্যমে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন আজিজুল হক চৌধুরী।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে জয়লাভ করেন বর্তমান সাংসদ শিবলী সাদিক।

দিনাজপুর-৬ আসনে ধারাবাহিকভাবে কোন রাজনৈতিক দলই লাগাতারভাবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারেন নি। আওয়ামীলীগ এ আসনে সময়ের ব্যবধানে ৬ বার, বিএনপি ২ বার, ন্যাপ ১ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ২ বার নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।

এ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮খ্রিঃ অনুষ্ঠিত হবে। দুই একদিনের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এ আসনে তাদের কাঙ্খিত প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে শীতের কোয়াশাকে উপেক্ষা করে পাড়া মহল্লায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরবেন বলে আশা ব্যক্ত করছেন। উঠে আসছে বিগত সময়ে এমপিদের উন্নয়ন ও চলমান সমস্যা সম্ভাবনার কথা।

এছাড়াও বাণিজ্যিক কৃষি অর্থনীতি অগ্রগামী এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ ৩৯ বৎসর যাবৎ তাদের প্রাণের দাবী করে আসছে বিরামপুর জেলা বাস্তবায়ন। জানি না কোন রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের কাঙ্খিত স্বপ্ন জেলা বাস্তবায়নের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য