আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের দহগ্রামে বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া হত্যা মামলায় জহুর হোসেন (৪০) নামে চার্জশিটভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে দহগ্রাম তদন্ত ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা।

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) রাত ৯ টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা সিস্টারপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত সুমন মিয়া বিজিবির ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তার বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায়। গ্রেফতার জহুর হোসেন দহগ্রাম ইউনিয়নের বঙেরবাড়ি এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে।

চলতি বছর এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও পাটগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) ফিরোজ কবীর। কয়েকজন জামিনে থাকলেও কয়েকজন দীর্ঘদিন থেকে পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে জহুর হোসেনের নামও ছিল।

জানতে চাইলে দহগ্রাম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ওসি) আবু হানিফ বলেন, আসামি জহুর হোসেনকে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে পাটগ্রাম থানায় পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৬ জুন গভীর রাতে গরু চোরাকারবারী ধরতে দহগ্রাম ক্যাম্পর হাবিলদার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল দহগ্রামের আবুলের চর এলাকায় তিস্তা নদীর কিনারে যায়। টহল দলের অপর সদস্য ল্যান্স নায়েক টুটুল মিয়া গরু ধরার জন্য নদীতে নামেন।

তিনি ডুবে যাচ্ছেন চিৎকার দিলে টহল দলের অপর সদস্য ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া তার অস্ত্র, রাইফেল, গুলি, টর্চলাইট ও জুতা খুলে অপর সদস্য সিপাহী উচ্চ প্রু মারমার কাছে জমা দিয়ে নদীতে নামেন। নদীতে নেমেই তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৮ জুন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে ভারতীয় সীমান্ত থেকে ভারতীয় ১৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের একটি দল সুমনের লাশ উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। বিজিবির পক্ষে করা মামলায় প্রথমে কাউকে আসামি না করা হলেও পরে আসামিদের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য