হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতির নামে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহিউদ্দিন নুর। সাংবাদিককে জড়িয়ে এমন মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকবৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক হাসান জামিল জেনিথ সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে আসামী করে যে মামলা দায়ের করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত। গত বুধবার (১৪ নভেম্বর) ইনক্রিমেন্টের দাবীতে বিকাল বেলা বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকরা।

সেদিন ওই ঘটনায় সময় হাবিপ্রবির রেজিষ্টার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনা স্থলে পৌছালে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাদের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই তিনটি পৃথক মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঘটনার ৭ দিন পরে গত ২১ শে নভেম্বর বুধবার ওই শিক্ষক উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তাকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়।

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহিউদ্দিন নুর বলেন, সেদিন আমি সন্ধ্যার পরে সেখানে যাই। আমি সেখানে যাওয়ার আগেই কোষাধ্যক্ষ স্যার কে উদ্ধার করে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলা থেকে তিন তলায় ভিসি স্যারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্যারদের সাথে উপরে যাই। কিন্তু আমাকে মামলায় জড়ান হয়েছে নিচ তলায় কোষাধ্যক্ষ স্যারের রুমের ঘটনায়। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি তিনি এ ব্যাপারে কোন তথ্য উপাত্তই দেখাতে পারবেন না। কারণ মিথ্যা মিথ্যাই। প্রশাসনিক ভবনের প্রতি ফ্লোরে ফ্লোরে সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলো চেক করেন দেখতে পারেন সেদিন কি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জনাব জেনিথ তো সদ্য পদন্নোতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ না , তাহলে তিনি কেন কি উদ্দ্যেশে সেখানে গিয়েছিলেন? সন্ধ্যার পরে তার কি কাজ সেখানে ছিল তা এখন পরিষ্কার।তিনি মূলত ষড়যন্ত্রের এই নাটক করতেই সেখানে গিয়েছিলেন ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মহোদয়ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মূহিউদ্দিন নুর সেখানে উক্ত ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আরও একটি বিষয় সুস্পষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সাদা দলের যে দুজন শিক্ষককে এই মামলায় সাক্ষি করা হয়েছে তারা ঐ ঘটনার সময় প্রশাসনিক ভবনের ত্রিসীমানায় ছিলেন না। অথচ তাদেরকে মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে যা হাস্যকর। তার মানে এই মামলা উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন কি নয়? পাশাপাশি তিনি এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, এ্যাডভাইজার ও কয়েকজন ছাত্রনেতাকেও জড়িয়েছেন।

মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি পুরো ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার উপর আঘাত। এই ধরণের মিথ্যা মামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়। অন্যদিকে সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত যে শিক্ষকদের কেন্দ্র করে এসব ঘটনা তারাও এ ব্যাপারে কথা বলতে বিব্রত বোধ করেছেন।

একজন শিক্ষক বলেন, আমরা এটা কখনোই চাইনি। আমাদের আন্দোলনকে নিয়ে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ খেলছে। এই মামলা পুরোপুরি বানোয়াট , আমরা এর বিরুদ্ধে স্ট্যান্ড নেবো। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি থেকে দেশের সকল প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব, রিপোটার্স ইউনিটি সহ পুরো সাংবাদিকদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর উদ্দ্যোগ নিয়েছেন।সাংবাদিকতার এই মহান পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য