দিনাজপুরে পরিবার কল্যান সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিতদিনাজপুর সংবাদাতাঃ “প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারী বৃদ্ধি করি- প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিশ্চিত করি”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ দিনাজপুর এর আয়োজনে জেনারেল হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে পরিবার কল্যাণ সপ্তাহ (২৪-২৯ নভেম্বর-২০১৮) উপলক্ষে এডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ দিনাজপুরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ আবু নছর নূরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আহাদ আলী, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার এনসিএইচএফসি (সদর) ডাঃ গোপীনাথ বসাক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গাইনী চিকিৎসক ডাঃ জাহানারা মুন্নী। উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ আবু নছুর নূরুল ইসলাম চৌধুরী এডভোকেসী সভায় অর্জনগুলো তুলে ধরে বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতের বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে চলতি অর্থ বছরে ২৩৩৮৩ কোটি টাকা হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৯ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে ১.৩৭ ভাগ হয়েছে। প্রজনন হার ২.৭ থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ২.০৫ হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৫৫.৮ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬২ ভাগ হয়েছে। মাতৃ মৃত্যুর হার প্রতি লাখে জীবিত জন্মে ৩২০ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে (২০১৫ সাল পর্যন্ত) ১৭৬ হয়েছে। ০-১ বছরের শিশুর মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ২০০৯ সালের ৫২ থেকে হ্রাস পেয়েছে বর্তমানে ৩৮ হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারীর হার ৩০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৭ ভাগ হয়েছে এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বিভিন্ন শূন্য পদে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫১৭ জন কর্মকর্তা ও ১২৭৮৩ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের মাধ্যমে তথ্য ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন ডিস্ট্রিক কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ রেজাউল হক। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা প.প. কর্মকর্তা (সদর) মোঃ ওবায়েদুর হক। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম বলেন মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার প্রথম শর্তই হবে পরিকল্পিত একটি সুন্দর পরিবার। যেখানে থাকবে না এবং সবার জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি জাতীয় সমস্যা।

স্বাস্থ্য বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে সেটাও এখন সমাধানের পথে। নিজ নিজ অবস্থান থেকেই আমাদের এ কাজ করতে হবে। তবে দিনাজপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কার্যক্রম সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য