হাবিপ্রবিতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচিআব্দুল মান্নান,হাবিপ্রবিঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১জন শিক্ষক মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বেতন বৈষম্য নিরসন ও শিক্ষক লাঞ্চনাকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ।

আজ কর্মসূচির তৃতীয় কর্মদিবস সোমবার সকাল থেকে শিক্ষকরা ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে মাথায় সাদা কাফনের কাপড় বেঁধে শিক্ষক লাঞ্চিতকারী,নারী শিক্ষক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানিকারী প্রক্টর,ছাত্র উপদেষ্টা ও রেজিস্টারের বহিষ্কার পূর্বক পদন্নোতি প্রাপ্ত নতুন শিক্ষকদের দাবী মেনে নেয়ার জন্য প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উক্ত শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা জানান ,গত ১১ অক্টোবর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হলেও পদ অনুযায়ী বর্ধিত বেতন দেয়া হচ্ছে না।এই বেতন বৈষম্য নিরসনের আলোচনা করতে গত বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে প্রবেশ করেন ৬১ জন শিক্ষক।

আলোচনা চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় এবং সেসময় আমাদের নারী শিক্ষকদেরকে শ্লীলতাহানির মুখে পড়তে হয়েছে ।এহেন ঘটনার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌক্তিক দাবিসমূহের প্রতি কর্ণপাত না করে উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়কে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে ।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতৃত্বদানকারী সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় জানান, যাদের মদদপুষ্ট হয়ে তাদের উপর হামলা হয়েছে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন, এটা শিক্ষকদের দাবি। ন্যায্য বেতন পাওয়া শিক্ষকদের অধিকার। সম্মান সম্মুন্নত রাখতে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা দাবি আদায় করা হবে।এ জন্য প্রয়োজন হলে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে।

শিক্ষকদের উক্ত দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আজ সিএসই অনুষদীয় শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।তাঁরা জানিয়েছে আমাদের কয়েকজন শিক্ষকের ওপর যে হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যক্কার জনক আমরা সেই সব হামলাকারিদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি ।

হাবিপ্রবিতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচিঅন্যদিকে যৌন নির্যাতক রমজান আলীর স্থায়ী বহিস্কারের দাবিতে আগে থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসা প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ এএসএম হারুন-উর-রশীদ বলেন ,কিছু নাম ধারী ছাত্রগুণ্ডা দ্বারা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় শিক্ষকদের লাঞ্চিত করা হয়েছে ।

শিক্ষকদের লাঞ্চনার সাথে জড়িতদের যতক্ষণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাবো ।এবং পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দাবী-দাওয়া মেনে নেয়া না হলে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সকল শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত থাকবে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান,তারা আমার উপর অভিযোগ এনেছে তা সত্য নয় ।কাউকে কোন উস্কানি দেয়া হয়নি ।আর আমার কোন ছাত্র তাদের সাথে কোন অসৌজন্যমুলক আচরণ করেনি ।তাদের কাছে যদি ভিজিবল ডকুমেন্ট থেকে থাকে তা আমাদের দেখাতে পারে ।তাদের অভিযোগ একবারেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।

এদিকে ৬১ শিক্ষকের আন্দোলনের ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, সহকারী অধ্যাপকদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়ম মোতাবেক বেতন প্রদান করা হচ্ছে ।নিয়মের মধ্যে থাকলে তাঁরা অবশ্যই সেটা পেত আর এর জন্য তাদের আন্দোলনের কোন প্রয়োজন ছিলনা ।

আমাদের নিয়মের মধ্যে সেটি না থাকায় আমরা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ইউজিসি’র কাছে চিঠি দিয়েছি ।আশাকরি খুব দ্রত একটা রেজাল্ট পাবো ।এরপর সে অনুযায়ী কাজ করা হবে ।শিক্ষকদের উপর হামলার ব্যাপারে তিনি জানান, সহকারী অধ্যাপকদের উপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তথাপি তাঁরা যেহেতু অভিযোগ এনেছেন তার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে ।তদন্তের প্রেক্ষিতে যা হবে তাই করা হবে ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য