নীলফামারীর ডোমারে পিডিসি পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার উত্তর বারবিশা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা হতে এ বছর ৫ জন ভুয়া পিডিসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীরা পার্শ¦বর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রী।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে জানার পরেও নীরব দর্শকের ভুমিকায়। শিক্ষাক্ষেত্রে এ রকম অরাজকতাকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

মাদ্রাসার পক্ষে পিডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ভুয়া পরীক্ষার্থীরা হলেন, ডোমার উপজেলার বাগডোকরা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র লোকমান, গোমনাতী দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র রাশেদ ও জাহিদ, বামুনিয়া দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি আক্তার এবং একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী লাতুল আক্তার।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসীর দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, ওই মাদ্রাসাটি নানা অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই মাদ্রাসাটি সকলের অগোচরে একটি অঘোষিত কমিটির মাধ্যেমে পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০০৮ সালে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান মারা যাবার পর হতে ফজলুল হক ও আবদুল ওয়াহেদ নামের দুই ব্যাক্তি পালা করে কাগজে কলমে মাদ্রাসার সভাপতির পদটি আকড়ে ধরে আছেন। এ দীর্ঘ সময়ে মাদ্রাসার কোন কার্যক্রম দেখা যায় নি এমনকি মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা পর্যন্ত তোলা হয় না বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারের নুতন তালিকাভুক্তির ঘোষনার সুযোগে তারা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া মাদ্রাসাটির এ দীর্ঘ সময়ের কাগজপত্র ঘরে বসে তৈরী করে। এসব কাগজ পত্রে সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ছেলে, জামাই ও নিকট আত্বীয়দের শিক্ষ হিসাবে নিয়োগ দেখানো হয়।

এলাকাবাসীর দাবী সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্সে সরকারী নীতিমালার মাধ্যেমে মাদ্রাসার কমিটি গঠন, শিক্ষক নিয়োগ ও পাঠদান করার। এ নিয়ে এলাকাবাসী ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিক অভিযোগ দায়ের করলেও প্রশাসন এখনো কুম্ভকর্ণের ঘুমে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য