লালমনিরহাটে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় নবান্নের উৎসব শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো শীত। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ একটু বেশি। শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দিন যতই যাচ্ছে শীতও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

কার্তিকের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। ক্রমেই তা ভারি হচ্ছে। কদিন থেকে সন্ধ্যার পরই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। দিনের শেষে বিকেল থেকেই শীতল হাওয়া আর সন্ধ্যার পর পরই কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছে।

এদিকে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই পুরনো শীতবস্ত্র ঠিক ঠাক করে নিচ্ছেন। বাজারের দোকানগুলোতে লেপ-তোশক তৈরি হিড়িক পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষদের শীত নিবারণের জন্য পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লুঙ্গী দিয়ে নতুন কাঁথা তৈরি করতে দেখা গেছে।

লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ৪ দিকে তিস্তা ও ধরলা নদীতে পরিবেষ্টিত লালমনিরহাট জেলায় শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা অন্য যে কোন জেলার চেয়ে বেশি। বিগত বছরের তুলনায় এবার অনেক আগে থেকেই শীত জেঁকে বসেছে।

স্থলভাগের তুলনায এই শীতে চরাঞ্চলগুলোর মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। জনবসতিপূর্ণ এসব চরের প্রায় শতভাগ মানুষই শীতবস্ত্রহীন। এসব এলাকার মানুষের শীত নিবারনের অবলম্বন বলতে ধানের খড় কুটোর আগুনের তাপ। শীত নিবারন হয়না বলে চরের ভূমিহীনরা ঘরের দুয়ারে খড়-গোবরের মুঠিয়া জ্বালিয়ে রাখেন সারারাত।

রাতে দুই কাঁথায় তাদের শীত কাটে। ছেলে-মেয়েদের পরনে গরম কাপড় নেই। একদিকে অভাব-অনটন, অন্য দিকে শীতবস্ত্রহীন দিনরাত অতিবাহিত করছে এ জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে ঘন কুয়াশায় বিদ্যালয় যাচ্ছে। বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা আমজাদ আলী বলেন, ‘শীত শুরু হয়েছে গরম কাপড় না থাকায় অনেক কষ্টে আছি।’ অন্যদিকে, সারাদিন রোদ সন্ধ্যায় কনকনে শীত শুরু হয়। প্রচণ্ড শীতের কারণে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড এলার্জি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। সব চেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলের লোকজন। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছে দিন মজুর শ্রেণীর লোকজন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, সরকারিভাবে শীত বস্ত্র আসলে তিস্তা তীরে আশ্রয় নেয়া লোকজনদের বেশি দেয়ার চেষ্টা করবো।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী জানান, কয়েক দিন ধরে শীতের প্রকোপ দেখা দেয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। আমরা সকলকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য