মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে পুলিশের গুলি, আহত ৪মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় শিবিরে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৪ রোহিঙ্গা আহত হয়েছে।

মানবপাচারকারী সন্দেহে দুইজনকে ধরতে পুলিশ শিবিরটিতে অভিযানে গিয়েছিল। এ সময়ই চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

রাখাইনের রাজধানী সিত্তুয়ে থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বের ‘আহ নুক ইয়ে’ শিবিরে রোববার সকালে পুলিশ অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি,অভিযানের এক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের আক্রমণের জবাবে তারা গুলি ছুড়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে জানা গেছে, সেখানে পুলিশের ওপর রোহিঙ্গাদের হামলা চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল ‘আহ নুক ইয়ে’ শিবিরে অভিযানে যায়। পুলিশের ভাষ্য, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি গত শুক্রবার একটি ছোট নৌকায় করে এ শিবির থেকে ১০৬ রোহিঙ্গাকে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করেছে।

ইয়াংগুনের দক্ষিণে সমুদ্র থেকে নৌকাটি আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ২৫ শিশুসহ ওই নৌকার সব আরোহীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

সে সূত্রেই শিবিরটিতে রোববার অভিযান চালায় পুলিশ। এ অভিযানের এক রোহিঙ্গা প্রত্যক্ষদর্শী মাউং মাউং আই জানান, পুলিশের গুলিতে চারজন আহত হয়েছে এবং তাদের দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

মাউং আই বলেন, “ক্যাম্পের লোকজন কী ঘটছে তা দেখতে বাইরে এলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।” তবে পুলিশ বলেছে, তারা ক্যাম্পে গেলে সেখানকার লোকজন তাদের ঘিরে ধরে এবং পাথর ছোড়ে। কারো কারো হাতে তলোয়ারও ছিল।

কাছের আরেকটি পুলিশ স্টেশনের পরিদর্শক থান হতাই বলেন, “শুনেছি, ক্যাম্পের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ভয় দেখাতে গুলি ছুড়েছে। এতে কয়েকজন বাঙালি আহত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানি না।”

মিয়ানমারের অনেক মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী বলে মনে করে। তাই তারা তাদের বাঙালি বলে।

মাউং মাউং আই পুলিশ মিথ্যা কথা বলছে দাবি করেন বলেন, রোহিঙ্গারা পুলিশের উপর হামলা করেনি বা আসামি ছিনিয়েও নিতে চায়নি। বরং পুলিশ ফাঁকা গুলি না করে স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য