হাবিপ্রবির সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তুলকালাম কান্ডঃ প্রেস ব্রিফিং দিনাজপুর সংবাদাতা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগের পূর্বে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের দ্বারা সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল আলম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজিষ্ট্রার জানান, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২০/২৫ জন সহকারী অধ্যাপক বুধবার সন্ধ্যায় হাবিপ্রবির ট্রেজারার প্রফেসর বিধান চন্দ্র হালদারকে মোবাইলে সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণচন্দ্র রায় দেখা করার কথা বললে ট্রেজারার জরুরী কাজে আইআরটি অফিসে রয়েছেন এবং না আসার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ২০/২৫ জন সহকারী অধ্যাপক আইআরটি অফিস কক্ষে ট্রেজারারকে অবরুদ্ধ করে দাবী করতে থাকেন যে মূল বেতন ছাড়াও অন্যান্য ইনক্রিমেন্টসহ তাদের বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

এসময় ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম ট্রেজারারকে তাঁর অফিসে এসে মিটিংয়ে যোগদানের জন্য বললে সহকারী অধ্যাপকগণ কক্ষ থেকে বের হতে ট্রেজারারকে বাধা প্রদান এবং হট্টগোল করেন। এসময় খবর পেয়ে ২জন ডীন, প্রক্টর, স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার, পরিচালক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা, ট্রান্সপোর্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ ট্রেজারারের কক্ষে এসে সহকারী অধ্যাপকদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

এক পর্যায়ে প্রফেসর ড. ফাহিমা খানম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মহসিন মারমুখী হয়ে ড. ফাহিমা খানমের দিকে তেড়ে আসেন এবং সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ আলোচনার পরিবেশ নেই বলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দিয়ে ধাক্কা ধাক্কি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভিতর থেকে সহকারী অধ্যাপকবৃন্দ দরজা বন্ধ করে দেন। ভয়ানক হৈ চৈ এর মধ্যে অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্ররা এসে অবরুদ্ধ ট্রেজারারসহ শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।

রেজিষ্ট্রার বলেন, এবছরের ১১ অক্টোবর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ৫৭ জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এসকল প্রভাষক অতীতে লিভ ভেকেন্সিতে বিভিন্ন বিভাগে যোগদান করেন। বিশ^বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ি রিজেন্ট বোর্ডের সভার তারিখ হতে সহকারী অধ্যাপকগণ উক্ত পদের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। সকল শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা আপগ্রেডেশন/প্রমোশন প্রাপ্যতার তারিখ হতে কার্যকর হলেও আর্থিক সুবিধা রিজেন্ট বোর্ডের তারিখ থেকেই পেয়ে থাকেন।

বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালকের (অর্থ ও হিসাব) সাথে ৮ নভেম্বর ভিসি, ট্রেজারার ও পরিচালক (হিসাব) দীর্ঘ ৪ঘন্টা পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জানান সহকারী অধ্যাপকগণ ১১ অক্টোবর থেকে মূল বেতন বাবদ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়া অন্য কোন ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নিয়ম ২০১৫ সালের ১ জুলাইয়ের পর থেকে সকল পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে কার্যকর হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে আর্থিক নীতিমালা অনুযায়ি সংশ্লিষ্ট সহকারী অধ্যাপকবৃন্দের দাবী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

রেজিষ্ট্রার বলেন, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১০-১৩ ডিসেম্বর হাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা এবং ২৪ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে ক্যাম্পাসে সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ অপরিহার্য। তিনি এব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচীতে সাবেক রেজিষ্ট্রার ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতা প্রফেসর ড. বলরাম রায় শিক্ষকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নিপীড়ন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য