ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে বিজয় হিসেবে দেখছে হামাসফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতির চুক্তির প্রতিবাদে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগেদর লিবারম্যানের পদত্যাগকে নিজেদের জন্য বিজয় হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনিরা। কারণ হিসেবে তারা বলছে, পদত্যাগী লিবারম্যান গাজায় হামলা অব্যাহত রাখতে চাইলেও হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল অস্ত্রবিরতিতে বাধ্য হয়েছে।

নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রাখতে না পারায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন লিবারম্যান। তার পদত্যাগের কারণে এরইমধ্যে দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলি টিভি চ্যানেল-টুয়েন্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবারম্যানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিজয় হয়েছে হামাসের। হামাসও এক বিবৃতিতে লিবারম্যানের পদত্যাগকে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইসরাইলের হামলার মোকাবেলায় গত কয়েক দিনে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল ফিলিস্তিনিরা। বুধবার গাজা থেকে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধ আন্দোলনের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মুখে অস্ত্রবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। এরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লিবারম্যান বলেন, হামাসের মোকাবিলায় অস্ত্রবিরতি মেনে নেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা।

ইসরাইলের টিভি চ্যানেল-টেন বলেছে, লিবারম্যানের পদত্যাগের কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এর ফলে ইসরাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসরাইলি টিভি চ্যানেল-টুয়েন্টি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লিবারম্যানের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে বিজয় হয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের।

হামাসও এক বিবৃতিতে বলেছে, লিবারম্যানের পদত্যাগ তাদের জন্য বড় বিজয়। তবে দলটি বলেছে, যতদিন ইহুদিবাদী শত্রুরা এর প্রতি সম্মান দেখাবে ততদিন আমরাও এর প্রতি সম্মান দেখাবো।

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ইহুদিবাদী শত্রুদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্থাপনে মিসরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।’ হামাসের এই ঘোষণাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে গাজা উপত্যকার রাস্তায় নেমে আসনে শত শত বিক্ষোভকারী।

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি শুরু হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ২০১৪ সালের যুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

১১ নভেম্বর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঢুকে সাতজনকে হত্যা করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারও রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় আরেক কমান্ডারসহ আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ হামলার পর ১২ নভেম্বর সকালে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক রকেট হামলা চালানো হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তাদের আয়রন ডোম ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তার মধ্যেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বাসে আর আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসরায়েলের একটি ভবনে আঘাত করেছে। এতে এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরও একজন। একইদিন গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে পাঁচ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতেই আরও সংঘাত এড়াতে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য