উত্তরে জমে উঠেছে ভাপা-পিঠার ব্যবসানভেম্বরের শুরু থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ে কনকনে শীত পরেছে। আর শীত এলেই শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে বিভিন্ন ভাপা-পিঠার মৌসুমী ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেই ভাপা-পিঠার ব্যবসা। এতে করে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এসব ব্যবসা। সেই সাথে ব্যবসায়িরাও মুনাফা অর্জন করছে বেশ।

এর আগে শুধু বাড়িতেই এসব পিঠা তৈরী করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অভিনব প্রন্থায় নানা জাতীয়, নানা রকম ভাপা-পিঠা তৈরী করে বিক্রি করা হচ্ছে। যেটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রচুর। এতে করে সাধারণ মানুষের আগ্রহও পাওয়া যাচ্ছে অনেক, ব্যবসায়িরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের চৌরাস্তা, কোট চত্ত্বর, কালিবাড়ি, নর্থ সার্কুলার রোড, বাসষ্ট্যান্ড, সত্যপীর ব্রীজ, গোধূরী বাজার, নিশ্চিন্তপুর, জগন্নাথপুর, নরেশ চৌহান সড়ক, আমতলী, কালিবাড়ি, ঠা: রোড যুব সংসদ মাঠ, বালিয়াডাঙ্গী মোড়সহ বিভিন্ন হাটবাজারে বর্তমানে এ ভাপা-পিঠা বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়বে। আর এসব পিঠা খাওয়ার জন্য শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

এসব ভাপা-পিঠার দোকানে বিভিন্ন রকম ভাপা, চিতুয়া, নুনতা পিঠা, তেল পিঠা, গুরগুরিয়া পিঠা, সিদ্ধ ডিম, ডিম চিতুয়া, হালিম ইত্যাদিও পাওয়া যায়। প্রতি পিস ভাপা ও চিতুয়া ৫টাকা করে বিক্রি করছে তারা। এছাড়াও সিদ্ধ ডিম, ডিম চিতুয়া একেক স্থানে একেক রাকম দামে বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর বাহিরেও মুখোরোচক চপও বিক্রি করে কেউ কেউ। এতে পিয়াজু, মরিচের চপ, আলুর চপ, ডিমের চপ, ঢেকী শাসের চপ, পটলের চপ, মাংসের চপ, চিকেন চপ, ধনিয়ার চপ, বিভিন্ন প্রকার পাপর রয়েছে।

এ জাতীয় মুখোরোচক খাবার খেতে প্রতিদিন বিকেল থেকে এসব দোকানে ভীরও হয় প্রচুর। বিশেষ করে সন্ধার পর গ্রাহকের ভীরে সিরিয়াল দিতে হয় ওই সব খাবার নিতে।

শহরের নরেশ চৌহান সড়কের ভাপা-পিঠা ব্যবসায়ি শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীত এলেই তিনি এ ব্যবসা করেন। এতে করে তার প্রতিদিন ২ হাজার টাকার মত বিক্রি হয়ে ৫-৭শ টাকা লাভ হয়। এতে করে সে অর্থনৈতিকভাবে লাভবন হচ্ছে।

শহরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ি আব্দুল হালিম জানান, চালের গুড়ার সাথে গুড়, নারিকেল মিশিয়ে ভাপা তৈরী করা হয়। এছাড়াও চালের গুড়া দিয়ে চিতুয়া, তার সাথে ডিম যোগ দিয়ে ডিম চিতুয়া খুবই মার্কেট পেয়েছে। বেশিরভাগ মানুষ এখন ডিম চিতুয়া খায়। সেই সাথে সিদ্ধ ডিম ও হালিম বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

এক সময় ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে ধান কুটা হতো, তা থেকে আটা করে বিভিন্ন প্রকার পিঠা তৈরী করা হলেও বর্তমানে এর ভিন্ন চিত্র চোখে পরে। বর্তমানে বিভিন্ন মৌসূমী ব্যবসায়ি এ জাতীয় ভাপা-পিঠা তৈরী করে বিক্রি করে জীবন-জীবীকা নির্বাহ করছে এটাই এখন বড় বিষয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য