মার্কিন হুমকির মুখে তেল ট্যাংকার রক্ষার ঘোষণা ইরানেরযুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে নিজেদের তেল ট্যাংকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির ইরানি সামরিক বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহমুদ মুসাভি আজ বলেছেন, “অতীতের মতোই আমাদের তেল ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি নস্যাৎ করে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সামরিক বাহিনী আজও প্রস্তুত রয়েছে।”

গত বুধবার ইরান বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক ইরানের ব্যবসায়ী মিত্রদেরকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সুয়েজ খাল থেকে মালাক্কা প্রণালী- কোথাও ইরানি তেল ট্যাংকার ভিড়তে পারবে না।

তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান থেকে তেল কেনার বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সোমবার ইরানের সেনা কমান্ডার জেনারেল মাহমুদ মুসাভি বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথে ইরানি তেল জাহাজকে বাধা দেয়া অগ্রহণযোগ্য; গত ৪০ বছর যেমন ইরানি সামরিক বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সুরক্ষা দিয়েছে এখনো তেমনই করবে।

২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত ৮ মে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সোমবার (৫ নভেম্বর) পরমাণু চুক্তি পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প একে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা হিসেবে আখ্যা দেন। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে নিতে চান বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য