আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে রুহুল আমিন (৪২) নামে এক রোগীর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১২ নভেম্বর) বিকালে পাটগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুহুল আমিন মারা যান। তিনি পাটগ্রাম পৌরসভার রহমানপুর এলাকার ৭ ওয়ার্ডের আব্দুর রহমানের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ‘রুহুল আমিনকে বুকে ব্যাথা নিয়ে সকাল ১০ টায় পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ২ ঘন্টায়ও রোগীর কোনো চিকিৎসা না হওয়ায় তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পাটগ্রাম হাসপাতাল ঘেরাও করে, ভাঙ্গচুরের চেষ্টা চালায়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রুহুল আমিনের স্ত্রী তুলি বেগম ও ছেলে তুরান রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘জরুরী বিভাগে দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘন্টায়ও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। একজন নার্স একটি স্যালাইন পুশ করে ও ইনজেকশন লিখে দেয়। পরে ইনজেকশন এনে দেওয়ার চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। জরুরী বিভাগেও কোনো চিকিৎসক ছিলনা।’

রোগীর ভাগিনা এরশাদুল হক আরও অভিযোগ করেন, ‘চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার মামা রুহুল আমিনের মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই, ঔষুধ পাওয়া যায় না। যদি চিকিৎসক রোগীর গুরত্ব দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করত তাহলে হয়ত ওনার মৃত্যু হতনা।’

পাটগ্রাম হাসপাতালের প:প: কর্মকর্তা ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকি বলেন, ‘রোগীকে ডাক্তার দেখেছিল। রোগী হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হৃদ রোগে আক্রান্ত রোগীর এ হাসপাতালে সে রকম কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাটগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ কবির বলেন, পাটগ্রাম হাসপাতালে এক মাইক্রো চালকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।’

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, ‘রোগী মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনার খবরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ গিয়ে রোগীর স্বজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য