কিশোরগঞ্জের আগাম আলু এবার ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে চাষীরাআগাম আলু উৎপাদনে খ্যাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা এবার ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। বিগত বছরগুলোতে প্রতিকুল আবহাওয়ায় আলু ক্ষেতে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ ও ন্যযমূল্যের অভাবে চাষীগণ মূলধন হারিয়েছে। কিন্তু চলতি মওসুমে আলু ক্ষেতের গাছগুলো বাম্পার ফলনের আভাস দেয়ায় কৃষকদের মনে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চলতি বছরে ৬ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সেভেন ও গ্রানুলা জাতের আগাম আলুর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। ১০ দিন পরেই পুরোদমে আগাম আলু উত্তোলন শুরু হবে।

ঢাকাসহ সারা দেশেই নতুন আলুর চাহিদা মেটাবে। বিগত কয়েক বছর ধরে আগাম আলু চাষীগণ প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে আশানুরুপ ফলন না পাওয়া লোকসান গুনেছে। এবারে আগাম আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা কৃষকদেরকে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিয়ে লাভের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এছাড়া অনেকের আলু ক্ষেতের গাছের চেহারা দেখে পাইকার আগাম বায়না দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী ও কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, আলু ক্ষেতের গাছগুলোর প্রতিকৃতি যেন কৃষকদেরকে বাম্পার ফলনের ফলনের হাতছানি দিচ্ছে। চাষীগণ আলু ক্ষেতের জমিতে সেচ প্রদান করছেন। ১০ হতে ১৫ দিনের মধ্যে অনেকে আলু উত্তোলনের অপেক্ষার রয়েছেন।

নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি গ্রামের আলুচাষী আইয়ুব আলী ও আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় এবারে জমিতে আগাম আলু ক্ষেত দেখলে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে এবারে লাভের মুখ দেখা যাবে।

বাহাগিলী ইউনিয়নের দুরাকুটি গ্রামের মাসুদ রানা ও পুটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী গ্রামের আলুচাষী নিয়াজ মোর্শেদ যুগান্তরকে জানান, গত বছর আগাম আলু চাষ করে লোকসান হয়েছে। এবারে আলু ক্ষেতের চেহারা ভাল হওয়ায় ফসল জমিতে থাকা অবস্থায় ১০ দিন আগেই পাইকার ৩৫/৩৬ টাকা কেজি দরে বায়না দিতে চাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, বিগত বছরে আগাম আলু জমিতে লাগার সময় বৃষ্টিপাতের কারণে ফলন কম হওয়ায় চাষীগণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবারে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় আগাম আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য