নুরুজ্জামান হত্যার আসামীদের ফাঁসির দাবীতে বিরামপুরে মানববন্ধবিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ ১১ নভেম্বর সকাল ১১ টায় দিনাজপুর জেলার বিরামপুর ঢাকা মোড়ে কাঠ ব্যবসায়ী উপজেলার পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার মৃত: নঈমুদ্দিন সরকার (মাষ্টারের) ছেলে নুরুজ্জামান সরকার ওরফে পুঁষি (৪৫) এর মাথা উদ্ধার ও নৃশংসভাবে তাকে দূবৃত্তরা হত্যা করায় অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার পৃর্বক আসামীদের ফাঁসির দাবীতে এলাকাবাসিসহ পুঁষির পরিবারের সদস্যরা মানব বন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পুঁষিকে হত্যা করে দূবৃত্তরা তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে নিয়ে যাওয়ায় ময়না তদন্ত শেষে দিনাজপুর মেডিকেল হীমঘরে মাথা উদ্ধারের পর দাফনের আশা করে আসছিল পুঁষির পরিবার। হত্যার ৯০ ঘন্টা পার হয়ে গেলে ও পুঁষির মাথা না পাওয়ায় এলাকাবাসিসহ পুঁষির পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মাথা উদ্ধারের জন্য এই মানব বন্ধনের আয়োজন করেছেন বলে এলাকাবাসিরা জানিয়েছেন।

মামলার বাদী পুঁষির বড় ভাই মোঃ মনিরুজ্জামান ওরফে মনার জেলার নবান গঞ্জ থানার করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪ ঘটিকায় তাঁর ছোট ভাই কাঠ ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান সরকার ওরফে পুঁষি হিরো গ্লামার ১২৫সিসি মটর সাইকেল যোগে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জেলার নবাব গঞ্জ থানাধীন ছোট মাগুড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আসামী রফিকুল ইসলামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

রাত্রী সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় ভিকটিমের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা মোবাইল ফোনে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন যে ভিকটিম আসামী রফিকুলের বাড়িতে আছেন। বাড়ি ফেরার সময় মেয়ের জন্য ক্যালকুলেটর ক্রয় করে আনবেন বলে তিনি স্ত্রীকে জানিয়ে দেন।

রাত্রী ৯ টার সময় ভিকটিমের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ না হলে মামলা বাদীসহ পরিবারের লোকজনদের অবহিত করেন। এ সংবাদ শুনে বাদী, তাঁর অপর ভাইরা ও প্রতিবেশীরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিতে থাকেন।

এর পর দিন ৮ নভেম্বর বেলা ১২ টার পর বাদী লোক মূখে জানতে পারেন যে, নবাবগঞ্জ উপজেলার ছোট মাগুড়া গ্রামে মাথা বিহীন একটি মৃতদেহ ধানক্ষেতে পড়ে আছে। সংবাদ পেয়ে বাদী তাঁর মামা ও ভাইরা সহ প্রতিবেশীদের নিয়ে উক্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের হাতের আঙ্গুলের আংটি ও পরিহিত শার্ট দেখে মস্তকবিহীন লাশটি তাঁর ভাই নুরুজ্জামান সরকার ওরফে পুঁষির বলে সনাক্ত করেন। এ সময় আশে পাশে খোঁজাখুঁজি করেও ভিকটিমের মস্তকটি পাওয়া যায়নাই।

মামলা এজারে স্বাক্ষীদের বয়ান ও কাটা পয়সার দেলদেনকে কেন্দ্রকরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এজাহার ভূক্ত আসামী রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম তাদের সহযোগি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামীদের সাথে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভারে উক্ত সময়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে নবাব গঞ্জ থানায় ৮ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের হয়েছে । মামলা নং-১০। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ৯০ ঘন্টা পর দুপুরে ঘটনাস্থলের ধান ক্ষেত থেকে নুরুজ্জামান সরকার ওরফে পুঁষির মাথা উদ্ধার হয়েছে বলে নবাব গঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ সুভ্রত কুমার সরকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য