ঘাসচাষে সাবলম্বী ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক রাজুমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাও: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা আট(৮) টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশি আবাদ হচ্ছে পুষ্টিকর ও উন্নত জাতের বিদেশী ঘাস।এই পুষ্টিকর ও উন্নত জাতের ঘাসের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবাদিপশু পালনের জন্য পুষ্টিকর ও উন্নত জাতের ঘাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিশেষ করে দুগ্ধবতী গাভীর জন্য সবুজ ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। গাভীকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ ঘাস দিলে প্রচুর দুধ পাওয়া যায়। আগে আমাদের দেশে খোলা মাঠের চারণভু’মিতে গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়ানো হত। কিন্তু দেশে দিনদিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চারণভু’মির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই এই এলাকার কৃষকরা অল্প জমিতে অধিক পরিমাণ পুষ্টিকর ও উন্নত জাতের ঘাস পেতে ঘাস চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এদিকে বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের বিদেশী ঘাস আবাদ করা হয়। তার মধ্যে নেপিয়ার,প্যারা,জার্মান ও জাম্বু ইত্যাদি । এদের মধ্যে বাংলাদেশে নেপিয়ার জাতের ঘাসের আবাদ খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় নেপিয়ার জাতের ঘাস খুব ভালো হয়। কচি অবস্থায় এ ঘাসে প্রচুর পরিমানে পুষ্টিমান বিদ্যমান। এই ঘাস অল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি পায় ।

এই ঘাস বিক্রির উপযোগী হলে কেঁটে বিক্রি করা হয়। ঘাস কাটার পর এতে কিছু পরিমান ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে কিছু দিনের মধ্যে নতুন ঘাস বৃদ্ধি পায়। অল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঘাসের আবাদের দিকে ঝুঁকছে উপজেলার কিছু কৃষক । পৌরশহরে কমবেশি প্রতিনিয়ত ঘাস চাষীদের ভ্যানগাড়িতে করে ঘাস বিক্রি করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি কথা হয় উপজেলার ৮ নং নন্দুয়ার ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের ছেলে রাজু নামের এক ঘাসচাষীর সাথে। তারা প্রায় ৫ বিঘা জমিতে আবাদ করছে এই বিদেশী ঘাস। একবিঘা জমি ছয় হাজার টাকায় এক বছরের জন্য চুক্তি নেয়। প্রতি বিঘা জমিতে দুই মাস পর পর ঘাস কেটে বিক্রি করে। সেই হিসেবে এক বিঘা জমিতে বছরে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা ঘাস বিক্রি করেন। এক বিঘা জমিতে বছরে খরচ করেন প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা ।

তিনি জানায়, এই বিদেশী ঘাস আবাদ করে তাঁর পরিবার এখন অনেক স্বাবলম্বী । প্রতিটি ঘাসের আটিঁ বিক্রি হয় ৪-৫ টাকা। সেই হিসেবে তাঁর দৈনিক আয় ৮/৯শত টাকা। বিদেশি ঘাসের নিয়মিত বাজার বসছে উপজেলার পৌরশহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিকাল৫ টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত। বিদেশি ঘাস বিক্রি করে রাজু এখন সাবলম্বী এবং সুন্দর জীবনযাপন করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য