11 18 18

রবিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - ঠাকুরগাঁও বাসির বহুল প্রতিক্ষার ট্রেন, চাহিদার তুলনায় আসন সিমিত

ঠাকুরগাঁও বাসির বহুল প্রতিক্ষার ট্রেন, চাহিদার তুলনায় আসন সিমিত

ঠাকুরগাও বাসির বহুল প্রতিক্ষার ট্রেনে চাহিদার তুলনায় আসন সিমিতমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাও: চালু হতে যাচ্ছে ঠাকুরগঁও-পঞ্চগড় থেকে সরাসরি ঢাকায় ট্রেন চলাচল। জেলাবাসির দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পুরন হলেও আসন সংখ্যা অপ্রতুল বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। আর কর্তৃপক্ষ বলছেন আসন সংখ্যা কম হলেও ট্রেন চালু হওয়াটাই ছিল মুখ্য বিষয়। অন্যদিকে মালবাহি পন্য সরবাহের ক্ষেত্রেও থাকছেনা কোন ব্যবস্থা।

App DinajpurNews Gif

ঠাকুরগাঁও জেলার আয়তন ১ হাজার ৮০৯.৫২ বর্গ কিলোমিটার। জেলা সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুরসহ ৫টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা, ৫৩টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ১৬ টি গ্রামের বিপরিতে আসন সংখ্যা তিনটি। বিশাল এ আয়তনের জেলায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। ঢাকার সাথে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ এ জেলার মানুষের দীর্ঘ মানুষের প্রত্যাশা পুরন হতে যাচ্ছে। তবে আসন সংখ্যায় সন্তুষ্ট নয় তারা। এতো জনসংখ্যার বিপরীতে দুটি ট্রেনে প্রায় দুইশ আসনে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার সবচেয়ে বড় রেল ষ্টেশনের তথ্য মতে, আগামী ১০ নভেম্বর থেকে দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেস নামে দিনে ও রাতে দুটি ট্রেন ঢাকার উদ্যেশে ছেড়ে যাবে। তবে সাপ্তাহিক কোন বন্ধ নেই। জেলা শহরের রোড ষ্টেশন থেকে সকাল ৮টায় দ্রুতযান টেনটি ছেড়ে যাবে সেই ট্রেনটিতে ঢাকাগামি যাত্রীরা পাবে ৫২০ টাকা করে প্রতিটি শোভন চেয়ার। এসি বার্থ কেবিন আসন ৪টি প্রতিটি ১১৯১ টাকা করে। এসি চেয়ার কেবিন ৫টি প্রতিটি ৯৮৯ টাকা করে। নন এসি চেয়ার ৪টি প্রতিটি ৬৯০ টাকা করে ক্রয় করতে হবে।

অন্যদিকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি একইস্থান থেকে ছেড়ে যাবে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। এই ট্রেনটিতে থাকবে ৪৪টি শোভন চেয়ার প্রতিটি ৫২০ টাকা। এসি বার্থ কেবিন ১টি আসন থাকছে ২টি ৩ হাজার ৫৬৬ টাকা। নন এসি বার্থ কেবিন আসন ৪টি ৪৩৪০ টাকা। এসি চেয়ার ৫টি প্রতিটি ৯৮৯ টাকা। জেলার বড় রেল ষ্টেশন থেকে যাত্রীরা সব মিলিয়ে আসন পাচ্ছেন ১৫৮ টি।

আর জেলার পীরগঞ্জ ও রুহিয়া থানার দুটি স্টেশন কাউন্টারের দুটি ট্রেনের দিন ও রাতের জন্য বরাদ্দ ৬৬টি শোভন চেয়ার আসন। তবে উত্তরের এ জেলা কৃষি ভিত্তিক জেলা হিসেবে বিখ্যাত হলেও মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে ট্রেন যোগে ঢাকার সাথে থাকছে না কোন ব্যবস্থা।

জেলার চ্যানেল নাইন সাংবাদিক মাসুদ রানা পলক জানান, আমাদের জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পুরন হতে যাচ্ছে। তবে আসন সংখ্যা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। অন্যদিকে কৃষি ভিত্তিক জেলা হলেও পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও থাকছ না কোন ব্যবস্থা। আমাদের দাবি জেলার বিশাল জনবহুল মানুষের সাথে নিয়মিত রাজধানীর সাথে যোগাযোগ অনেক বেশি তাই উদ্বোধনের আগেই আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক। তাহলে এ জেলার মানুষের কাঙ্খিত আশা পুরন হবে।

ঠাকুরগাঁও রোড রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আখতারুল ইসলাম জানান, আমরা মনে করি দুটি ট্রেন যেহেতু সরাসরি ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা চলাচল করবে এতে কিছুটা হলেও মানুষের ভোগান্তি কমবে। ট্রেন চালুর পর চাহিদা বাড়লে আমরাও উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি অবগত করবো।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড.কেএম কামরুজ্জামান জানান, আমরা এখনো আনুষ্টানিকভাবে উদ্বোধনের বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে উদ্বোধনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য