ঠাকুরগাঁওয়ে দাম না থাকায় মূলাসহ ক্ষেতে হালঠাকুরগাঁওয়ে আগাম শীতকালীন সবজি মূলা চাষ করে বিক্রয় না হওয়ায় লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে আবারো অন্য ফসল ফলানোর জন্য মূলাসহ জমিতে হাল দিচ্ছেন চাষীরা। জেলার বেশিরভাগ এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। সদর উপজেলার বিমান বন্দর, গিলাবাড়ী, মরিচপাড়া এলাকায় মূলা চাষীরা বিক্রয়ের জন্য গ্রাহক না পেয়ে এমন অবস্থায় পড়েছেন।

মরিচপাড়া এলাকার শাহীন আলী বলেন, ১ একর মূলার চাষ করেছি ফলনও ভাল হয়েছে। প্রথমে দাম কিছুটা ভাল থাকলেও বর্তমানে বাজারে ১ টাকার ২ কেজি দরে মূলা বিক্রয় হচ্ছে। আন্য জেলা হতে ব্যবসায়িরা মূলা ক্রয় করতে আসলেও ১ বস্তা বাছাই করা মূলার দাম বলছে ১শ টাকা যা মূলা সংগ্রহ করতে শ্রমীকদের খরচ দিতে চলে যাবে। তাই মূলাসহ জমিতে হাল দিচ্ছি।

গিলাবাড়ী এলাকার মূলা চাষী নাসিমুল হক বলেন, ৪ একর জমিতে মূলার চাষ করেছি বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ী না পেয়ে মূলাসহ জমিতে হাল দিচ্ছি। আবারো ঐ জমিতে আলুর চাষ করবো। তিনি আরো বলেন, কষ্ট করে চাষ করে উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম পাচ্ছি না। এ ভাবে চলতে থাকলে চাষী টিকে থাকতে পারবো না। স্থানীয় ব্যবসায়ি হুমায়ুন আহমেদ বলেন, কয়েক দিন আগেও মূলার দাম ভাল ছিল। অন্য জেলায় মূলার চাহিদা না থাকায় হঠাৎ মূলার দাম কমে গেছে। শুধু মূলা নয় সকল সবজির দাম কম।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আফতাব হোসেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির ফলন ভাল হচ্ছে। একই সাথে সকল সবজি বাজারে আসায় মূলার দাম কম পচ্ছে চাষীরা। তবে চাষীরা যদি পরিকল্পনা করে বাজারের চাহীদা অনুযায়ী সবজির চাষ করে তাহলে লাভবান হতে পারে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা য়ায়, এ বছর জেলায় সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে একক ভাবে মূলার চাষ হয়েছে প্রায় ৫শ হেক্টর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য