প্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে দুই মুসলিম নারীপ্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন দুই মুসলিম নারী। তারা হচ্ছেন মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ইলহান ওমর এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত রাশিদা তৈয়ব। ৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের দুজনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির টিকিটে বিজয়ী হন।

শিশু বয়সে চার বছর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছিলেন ইলহান ওমর। পরে শরণার্থী হিসেবে নিজ দেশ সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। ডেট্রয়িটে জন্মগ্রহণকারী রাশিদা তৈয়ব ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মা-বাবার সন্তান।

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম কোনও হিজাব পরিহিত সদস্য হতে যাচ্ছেন ৩৬ বছরের ইলমান ওমর। ২০১৬ সালের যে রাতে শরণার্থীবিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সে রাতে তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান বংশোদ্ভূত ৪২ বছরের রাশিদা তালিব ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনি মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ছয় বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তার পরিবার ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ী হয়েছিল।

রাশিদা তালিবের বাবা ডেট্রয়িটে ফোর্ড মোটর কোম্পানির একটি প্রকল্পের কাজ করতেন। অভিবাসী পরিবারের এই কন্যা এবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির টিকিটে মিশিগানের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে আসনটি ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের দখলে ছিল। যৌন সন্ত্রাসের দায়ে দলটি থেকে নির্বাচিত কনিয়ারসকে বরখাস্ত করা হলে আসনটি শূন্য হয়।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে রাশিদা তৈয়ব বলেন, কেন আমি এই নির্বাচন করছি? কেননা এটি হচ্ছে প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) ইমপিচ করার জন্য জুরি নির্বাচন করা। আমি তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবো।

মানবাধিকার ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে রাশিদা তৈয়বের। তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্মের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন যারা ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার নির্ধারণ করা, সরকারি কলেজে বিনা খরচে পড়াশুনার মতো বিষয়াদি নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের বিষয়েও বরাবরই সোচ্চার ট্রাম্পবিরোধী এ রাজনীতিক।

নির্বাচিত হওয়ায় রাশিদাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নবনির্বাচিত আরেক মুসলিম সিনেটর ইলহান ওমর। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমার বোন রাশিদা তালিব, বিজয়ের জন্য তোমাকে অভিনন্দন। আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অপেক্ষা করতে পারছি না, ইনশাল্লাহ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ ৯০ জন মুসলিম নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা একটি রেকর্ড। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থী হন ছয় মুসলিম। সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য