ইন্দোনেশীয় বিমানের এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর নষ্ট ছিলইন্দোনেশিয়ার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির শেষ চার ফ্লাইটেই একটি গতিসীমা পরিমাপক যন্ত্র বা এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর নষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশীয় তদন্ত কর্মকর্তারা।

সাগরের নিচ থেকে পাওয়া বিধ্বস্ত বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারে এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটর নষ্ট থাকার তথ্য মিলেছে বলে সোমবার জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির (কেএনকেটি) প্রধান সোয়েরজান্তো তিজাহজোনো; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে জাকার্তা থেকে পাংকাল পিনাংয়ে যাওয়ার পথে লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজটি ১৮৯ আরোহী নিয়ে জাকার্তার অদূরে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজটির সব আরোহীর মৃত্যু হয়।

বিশ্বজুড়ে চলমান বোয়িংয়ের এ মডেলের উড়োজাহাজে একই ত্রুটি থাকলে, তা মোকাবিলায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও বোয়িং কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কেএনকেটি তা জানতে চেয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিজাহজানো।

বোয়িংয়ের একই মডেলের অন্য বিমানগুলোতেও এ ত্রুটি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিতে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) ।

ইন্দোনেশীয় সরকারের অনুরোধে সেখানে মার্কিন পরিবহন নিরাপত্তা পরিষদ (এনটিএসবি) ও তাদের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন এফএএর ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ড্যান এলওয়েল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটির গতিসীমা পরিমাপক অন্যান্য যন্ত্র ঠিক ছিল কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা তা প্রকাশ করেননি। যান্ত্রিক না রক্ষণাবেক্ষণজনিত ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত বিমানের এয়ারস্পিড ইন্ডিকেটরটি নষ্ট ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিধ্বস্ত হওয়ার আগের দিনও বিমানটিকে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ মোকাবেলা করতে হয়েছিল বলে গত সপ্তাহেই জানা গিয়েছিল। যদিও কী ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা বলেননি লায়ন এয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড স্ট্রেইট। ত্রুটি ধরা পড়ার পর ‘নিয়মানুযায়ীই তা ঠিক করা হয়’ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

“কী সমস্যা হয়েছিল, কিভাবে মেরামত হয়েছিল, তাদের রেফারেন্স বুকই বা কী ছিল, কোনো উপাদান সরানো হয়েছিল কি না, আমরা এখনো জানিনা। কী ক্ষতি হয়েছিল আর কিভাবে তা সারানো হয়েছিল, সেগুলোই আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি,” বলেছেন কেএনকেটির বিমান দুর্ঘটনা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান নুরকাইয়ো উতোমো।

গত সপ্তাহে লায়ন এয়ারের এ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে এত তাড়াতাড়ি নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদেরও।

উদ্ধারকারীরা এখনো জাভা সাগরের নিচ থেকে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারটি উদ্ধার করতে পারেনি।

এ দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বোয়িং কর্তৃপক্ষ। মার্কিন এ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ২১৯টি ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান সরবরাহ করেছে, অর্ডার পাওয়া এ মডেলের আরও ৪ হাজার ৫৬৪টি বিমান এখন সরবরাহের অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য