চিরিরবন্দরে গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর হিড়িকদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সড়ক ও মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকার মূল্যবান গাছগুলোতে পেরেক ঠুকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর হিড়িক পড়ে গেছে।

আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণা ও আগামী ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণার অংশ হিসেবে বর্তমানে এর মাত্রা বেড়েছে। এতে গাছের সৌন্দর্য্যতা নষ্টসহ গাছগুলো স্বাভাবিক জীবনশক্তি হারিয়ে মরে যাচ্ছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাণীরবন্দর, আলোকডিহি, বেকিপুল, ভূষিরবন্দর, বিন্যাকুঁড়ি, ঘন্টাঘর, অকড়াবাড়ি, বাংলাবাজার, আখতারের বাজার, ঘুঘুরাতলী, বেলতলী, কারেন্টহাট, আমতলীবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার ও ব্যস্ততম সড়কের পার্শ্বের গাছে গাছে পেরেক ঠুঁকিয়ে টানানো হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের ব্যানার ও ফেস্টুন।

এক-একটি গাছে অন্তত দু’তিন শতাধিক পেরেক ঢুকেছে গাছের ভেতরে। গাছে গাছে লাগানো ব্যানার ও ফেস্টুনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হারবাল চিকিৎসালয়, চিকিৎসকসহ রাজনীতিক নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন।

নান্দেড়াই গ্রামের আমিনুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিন ও আব্দুলপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিন বলেন, ব্যক্তি বিশেষের প্রচার প্রচারনার কারণে গাছে গাছে নির্বিচারে পেরেক মেরে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর ফলে গাছগুলো মরে পথচারীদের চলাচলে হুমকি হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য দুই যুবক বলেন, সবার দৃষ্টি পড়ে এমন স্থানগুলো গাছে গাছে ব্যানারগুলোর টানানোর জন্য কোচিং মালিকের নির্দেশে গাছে পেরেক দিয়ে ব্যানার টানানো হচ্ছে। ইছামতি ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোঃ আতাউর রহমান বলেন গাছের প্রাণ আছে,একেটি গাছ যেন একেকটি অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি।

অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। পেরেক লাগানোর কারনে গাছের গায়ে ছিদ্র হয় তা দিয়ে পানি ও এর সাথে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব প্রবেশ করে। যার কারণে গাছের ওই স্থানে পচন ধরে। ফলে গাছের খাদ্য ও পানি শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

এতে পাছটি এক সময় মারা যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, গাছে পেরেক ঠুকে কোন ব্যানার ফেস্টুন, প্লাকার্ডসহ কোন প্রকার প্রচারপত্র লাগানোর সরকারী নির্দেশনা নাই। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিরুদসাহিত করে থাকি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, গাছে পেরেক মারলে গাছের জীবনীশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। মাটি থেকে গাছ পানি শোষণ করে। গাছ সেই পানি ছাল দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। পেরেক মারলে গাছের ওই অংশ পঁচে গিয়ে গাছ মরে যেতে পারে। মানুষের শরীরে পেরেক ঠুকলে যেমন লাগে, গাছেরও তেমন লাগে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রায় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রয়োজনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য