১৮ বছরেও নিজস্ব ভবন জোটেনি ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি টেক্সটাইল ইন্সটটিউিটেরঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আঠার বছরেও নিজস্ব ভবন জোটেনি সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট ঠাকুরগাঁওয়ে ভাড়া বাসায় ২ হাজার সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে শহরের হাজীপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন র্বোডের অফিস ভাড়া নিয়ে সরকারি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ঠাকুরগাঁও টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার সালে সারা দেশে ৩০ টি জেলায় নতুন টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ভাড়া প্রতিষ্ঠানে পাঠদান র্কাযক্রম শুরু করে। নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় ১৮ বছর ধরে ভাড়া বাসাতে নানা সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার দৈন্দিন কার্যক্রমসহ পাঠদান চালছে ।

ডাইং প্রিন্টিং এন্ড ফিনিশিং, ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং, উইভিং ও নেটিং ৪ বিভাগে ২শতাধিক শিক্ষার্থী নবম হতে দশম শ্রেণীতে শিক্ষা গ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠাটির নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য পরিচালক বস্ত্র পরিদপ্তরের চিঠির চাহিদার পৃক্ষিতে সরকারি ভাবে স্থান নির্বাচনের পর ২০১৫ ও ২০১৭ সালে দুইবার ঠাকুরগাঁও গণর্পূত বিভাগ খসড়া প্রাক্কলন করে পাঠানো পরেও এখনো কোন খবর পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। অথচ বস্ত্র ও পাট অধিদপ্তর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঠাকুরগাঁও রোড, রুহিয়া ও শিবগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব জমি অন্যের দখলে। তাদের জমিতে গড়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ সেবা অফিস, ডাকঘরসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী গোলাপী রাণী বলেন, ইন্সটিটিউটটি সরকারি আমরা জানলেও এলাকার মানুষ জানেন না। চার পাশে বাড়ী আর বাড়ী মাঝ খানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনে হয় না। খেলার মাঠ নাই আমরা খেলতে পারি না। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাসিম হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে পড়ালখো ভাল হয়। ইন্সটিটিউটটি কারিগরী প্রতিষ্ঠান জেলার শ্রেষ্ঠ ও বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সম্মাননা পেয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারী টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের সুপার স্বপন কুমার বোস বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া সুচারু রুপে পরিচালনা করা যায় না। পর্যাপ্ত পরিমান ঘর না থাকায় শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সঠিক ভাবে রাখা যায় না। নানা সমস্যার মাঝেও একটি প্রজেক্টর অতীব জরুরী প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অশীম কুমার মালাকার বলেন, শুনেছি পাট অধিদপ্তরের জমি ঠাকুরগাঁওয়ে আছে যা নিয়ে মামলাও চলমান আছে। আমি নতুন এসেছি তাই বিশেষ কিছু বলতে পারছি না। বিস্তারিত জানতে চাইলে ঢাকায় যোগাযোগ করেন।

ঠাকুরগাঁও গণর্পূত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক বলেন, পরিচালক বস্ত্র পরিদপ্তরের চিঠির চাহিদার পৃক্ষিতে দুইরার খসড়া প্রাক্কলন করে পাঠানো হয়েছে। পরর্বত্তিতে আর কোন ফিটবেক পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটি প্রশাসনিক ভাবে অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে সরকারি টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটি নিজস্ব জায়গা পেলে শিক্ষার মান উন্নয়নসহ সরকারি অর্থে ব্যয় কমবে আশাবাদী ঠাকুরগাঁওবাসী ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য