তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকায় আগুনসাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস ও মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া দখলের বার্ষিকী পালন করেছে ইরান। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে অবস্থিত তৎকালীন মার্কিন দূতাবাস দখলে নেয় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার তেহরানের মার্কিন সাবেক দূতাবাসের সামনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লাখো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েলবিরোধী শ্লোগান। সৌদি রাজতন্ত্রের পতনের দাবিতেও শ্লোগান দেওয়া হয়েছে। পদদলিত করে আগুন দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায়।

ফিলিস্তিন এবং ইয়েমেনের জনগণের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা। অনেকের হাতে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানবিরোধী প্ল্যাকার্ড। এ সময় ইরানকে হুমকি দেওয়ার সাহস না করতে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, অতীতের মতো এবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

রাজধানী তেহরান ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেয়। তেহরানের বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি। তিনি বলেন, ‘মি. ট্রাম্প! ইরানকে কখনও হুমকি দেবেন না।’

মেজর জেনারেল জাফারি বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের গত ৪০ বছরের ইতিহাস নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভরপুর। একটু চিন্তা করলেই এসব ঘটনায় ঐশী শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। মার্কিন দূতাবাস দখলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন কূটনীতিকরা যদি ইরানে থাকতো তাহলে ইসলামি বিপ্লব আজ ৪০ বছর পূর্ণ করতে পারতো না।

তারা সরাসরি নানা তৎপরতা চালাচ্ছিল। যেদিন থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও গুপ্তচররা ইরান ছেড়েছে সেদিন থেকেই দেশের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন জোরদার হয়েছে। সূত্র: পার্স টুডে, আল জাজিরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য