বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে চিরপরিচিত উত্তরের জেলা দিনাজপুর। মাছে ভাতে তুষ্ট বাঙ্গালীর খাদ্য জননী জেলার বিরামপুরে চলতি আমন মৌসুমে আশানুরুপ ফলনের স্বপ্ন ও হাসি এখন কৃষকদের চোখে মুখে। চলতি আমন চাষের চারা রোপনের সময়টা বেশ ভাল ভালই কেটে গেছে। বর্ষার শুরুতেই আকাশের বৃষ্টিটা পরিমানমত হওয়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এই উপজেলায় অতি বর্ষণ ও বন্যা হয়নি।

তাই উঁচু নিচু সব জমিতেই আমন ধান ব্যাপক চাষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আশ্বিণ ও কার্তিক মাসে কিছু বৃষ্টি হয়, যা আমন ধানের ফলনের সহায়তা করে। চলতি মৌসুমে এ সময়টায় কোন বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা ফলন বিপর্যয়ের চিন্তায় ভুগছিলেন। অবশেষে সেই সংকট কাটাতে অত্র উপজেলার কৃষকরা যে যার মত আমন ধানের জমিতে দ্রুত সেচ দিয়ে ফসলের ফলন বিপর্যয় রক্ষা করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের উত্তর দাউদপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান , গোলজার হোসেন, দক্ষিণ দাউদপুরের খায়রুল আনাম, এনামুল হক, রণগাঁও এলাকার জালাল মন্ডল, রামচন্দ্রপুরের অরুন সরকার জানান, আমাদের কয়েকটি মাঠের মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় মাটিতে রস রয়েছে। তাই সেচ না হলেও ফসলের ফলনে তেমন ক্ষতি হবে না। ধানের বাজার মূল্য ভাল থাকলে বিগত বছরগুলোর ছেয়ে চলতি বছরে একটু লাভের মূখ দেখতে পাবেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মাঠে মাঠে আমন ধানের শীষ যেন বাতাসে দোল খাচ্ছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই উপজেলার কৃষকদের খালি উঠান ধানে ধানে ভরে উঠবে। গ্রামে গ্রামে পড়বে নবান্নের ধুম।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, সময় মত কৃষকদের মাঝে সরকারি কৃষি প্রনোদনা দেওয়া হয়েছিল। চলতি আমন মৌসুমে অত্র উপজেলায় ১৭ হাজার ৪’শ ৯৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে সেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫’শ হেক্টরে গেছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, কৃষকরা তাঁদের জমিতে গুটিস্বর্ণা,স্বর্ণা পাঁচ, শম্পাকাটারি, জিরাকাটারি, হাইব্রিট, ব্রি-৩৪,সহ নতুন নতুন বেশ কিছু জাতের ধান চাষ করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য