পঞ্চগড়ে শিমের বাম্পার ফলনপঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ও হাড়িভাসা ইউনিয়নে শীতকালীন সব্জি শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শিমের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখের হাসি মলিন হয়ে যাচ্ছে ফরিয়া ব্যবসায়ীদের মুল্য নির্ধারণ সিন্ডিকেটে।

স্থানীয় শিম চাষিরা জানায়, জেলার হাফিজাবাদ ও হাড়িভাসা ইউনিয়নেই প্রায় ৩-৪ শত একর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। বীজ রোপণের দুই মাস পর বাগানে ফুল আসতে শুরু করলে অধিকাংশ শিম ক্ষেতে ফুলের বোটায় পঁচন রোগ আক্রমন করে। স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শক্রমে ওষধ স্প্রে করায় পঁচন রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

হাফিজাবাদ ইউনিয়নের শান্তিপাড়া এলাকার গনেশ এ বছর সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, গাছে প্রথমে ফুল আসার পর পঁচন রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ওষধ স্প্রে করায় বর্তমানে গাছে ফুল ও ফল বেশ ভালই হয়েছে।

গত বছর তিনি প্রতি বিঘা শিমে ৩০-৪০ হাজার টাকা উর্পাজন করেছ। তবে এ বছর স্থানীয় ফরিয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে শিম চাষিরা লাভবান হতে পারছে না। একদিকে পঁচন রোগ ও পোকার আক্রমন থেকে গাছ রক্ষা করতে ওষধ স্প্রে ও সার প্রয়োগে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অন্যদিকে ফরিয়া ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া দামে শিম বিক্রি করতে হচ্ছে।

এতে লোকসানের আশঙ্কায় সবজি চাষের আগ্রহ হারানোর ছাপ শিম চাষিদের চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিম চাষি গনেশ আরও জানান, ফরিয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। তাই কয়েকজন শিম চাষি মিলে ট্রাক ভাড়া করে নিজেরাই ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিম পাঠিয়ে দিচ্ছি।

হাড়িভাসা ইউনিয়নের লাঠুয়াপাড়া এলাকার মো: মোহর আলীকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ক্ষেত থেকে শিম তুলতে দেখা যায়। তিনি দেড় বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। শিম চাষি মোহর আলী জানান, পঁচন রোগ, পোকার আক্রমনের পরেও শিমের ভালো ফলন হয়েছে। প্রথমবার প্রায় ২০ দিন আগে ৩ হাজার টাকা মণে শিম বিক্রি করেছেন।

এরপর পরিবহন ধর্মঘটের আগের দিন ২৭ শত টাকা মণে বায়না হলেও পরদিন ধর্মঘটের কারণে শিম পাঠাতে পারেননি তিনি। ক্ষেত থেকে তুলে আনা শিম বাধ্য হয়ে ২ হাজার টাকা মণে বিক্রি করেছেন পঞ্চগড় বাজারে। একই এলাকার তায়েব হোসেন ১ একর ২৫ শতক জমিতে চল্লিশা লালমাই জাতের শিম চাষ করেছেন।

তিনি জানান, গাছে ফুল আসার পর পোকার উপদ্রব দেখা দেয়। কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ভলিয়মসহ একাধিক ওষধ ৩ মাসে প্রায় ১৫ বারের অধিক স্প্রে করা হলেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, শিম চাষের একক কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে ৮০-১ শত হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া শিম চাষের জন্য উপযোগি। তুলনামূলক উচু মাটিতে শিমের চাষ ভালো হয়। এই এলাকার কৃষকরা নলী, ইপশা, বারী-১, ২ ও চল্লিশা জাতের শিম চাষ করেন।

এরমধ্যে চল্লিশা জাতের শিমে রোগ-বালাই কম এবং ফলনও বেশি হয়। আগাম শিম চাষের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার কারণে বোটা পঁচা ও ফুল ঝড়ে পড়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য