ম্যার্কেলদলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেও চ্যান্সেলর হিসেবে বর্তমান কার্যকাল পূর্ণ করতে চান জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল৷ আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দিলেন তিনি৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেল দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করায় জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোড়ন শুরু হয়েছে৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তার মতো অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও অনেকের কাছে শ্রদ্ধেয় নেতার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷ ম্যার্কেল নিজে চ্যান্সেলর হিসেবে কার্যকাল পূর্ণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন৷

তবে চতুর্থ কার্যকালে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়া এই জার্মান চ্যান্সেলর নিজের দলের নেতৃত্ব ছেড়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়বেন, এমন আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে৷ বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ‘লেম ডাক’ নেতা কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

মঙ্গলবার বার্লিনে আফ্রিকার নেতাদের সঙ্গে সেই মহাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্মেলনে ম্যার্কেল নিজে এ বিষয়ে মুখ খুললেন৷ মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ আল-সিসির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যার্কেল বলেন, দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব ছেড়ে দেবার পর তিনি বরং সরকার প্রধান হিসেবে অন্যান্য বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন৷

অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই চতুর্থ কার্যকালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ম্যার্কেলের দুর্বল অবস্থানের পেছনে জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বর্তমান জটিল পরিস্থিতিকে দায়ী করে এসেছেন৷ বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট সক্রিয় নয়৷

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সংস্কারের যে সব প্রস্তাব পেশ করেছেন, সেই উদ্যোগেও ম্যার্কেল যথেষ্ট জোরালোভাবে অংশ নিতে পারছেন না৷ তার উপর আগামী জানুয়ারি মাসে জার্মানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব নিতে চলেছে৷

দলের নেতার দায়িত্ব ত্যাগ করে ম্যার্কেল সত্যি সরকার প্রধান হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবেন কিনা, তা বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করছে৷

সরকারের স্থায়িত্বের পাশাপাশি দলের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা চ্যান্সেলর হিসেবে তার ক্ষমতা নির্ধারণ করবে৷ এই মুহূর্তে সেই পদের জন্য যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে দু’জন ম্যার্কেলের ঘনিষ্ঠ, অন্য দু’জন বিরোধী হিসেবে পরিচিত৷ বিশেষ করে এককালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ফ্রিডরিশ ম্যারৎস সিডিইউ দলের শীর্ষ নেতা হলে ম্যার্কেল-এর পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে৷

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান-এর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক আনেগ্রেট ক্রাম্প কারেনবাউয়ার বা নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আরমিন লাশেট দলের নেতা হলে ম্যার্কেল নিশ্চিন্তে চ্যান্সেলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

আগামী ৭ই ডিসেম্বর হামবুর্গ শহরে সিডিইউ দলের সম্মেলনে নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন৷ এতকাল সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই পদে কোনো ব্যক্তি উঠে এসেছেন৷ ফলে দলের সব অংশের সমর্থন ও যথেষ্ট ভোট পেয়ে তিনি নিশ্চিন্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারতেন৷ এবার চার অথবা আরও বেশি ব্যক্তি যদি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যান, সেক্ষেত্রে ভোট ভাগ হয়ে যাবে এবং সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেলেও শীর্ষ নেতার কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে৷

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য