ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন উত্তর কোরিয়ার নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনাউত্তর কোরিয়ায় নিয়মিতভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে যৌন সন্ত্রাসের শিকার হন দেশটির নারীরা। এমনকি কারারক্ষী, জিজ্ঞাসাবাদকারী, পুলিশ, প্রসিকিউটর ও সেনাসদস্যদের হাতেও নিপীড়নের শিকার হতে হয় তাদের। এসবের পাশাপাশি দেশটির ক্রমশ গজিয়ে উঠা কালো বাজারেও অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। এমনটাই উঠে এসেছে নতুন এক প্রতিবেদনে।

২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম জং উন। ওই বছর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশত্যাগ করেছেন এমন ৫৪ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভিকটিমদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরিতে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছে।

ক্ষমতাশালী পুরুষদের এসব ঘটনার জন্য কোনও দায় নিতে হয় না। একজন গার্ড বা পুলিশ অফিসার যখন কোন নারীকে পছন্দ করে, তখন তার দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। সেই দাবি যৌন সম্পর্কই হোক আর অর্থ বা অন্য কোনও সুবিধা দাবিই হোক।

উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির চারটি বড় রাজনৈতিক কারাগারে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার বন্দি আটক রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে খুন, ধর্ষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও অন্যান্য যৌন সহিংসতা, দাসত্ব, নির্যাতন ও কারান্তরীণ করার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এছাড়া রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত ও লিঙ্গের ভিত্তিতে অত্যাচার, জনসংখ্যার জোরপূর্বক স্থানান্তর, লোকজনকে গুম করা এবং সচেতনভাবে অমানবিক ক্ষুধা তৈরির মতো বিষয়গুলোও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বিশেষত যেখানে পুলিশ, বাজার পরিদর্শক এবং সেনারা পুরুষ সেখানকার নারীরা বিশেষভাবে অরক্ষিত।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন যদিও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও মনোযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, তবে কালো বাজারগুলো অনেক পরিবারের জন্য আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে যেখানে যৌন সহিংসতার ব্যাপক নজির রয়েছে।

ওহ জাং-হি নামের একজন ব্যবসায়ী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেন, যৌন সন্ত্রাসের ব্যাপকতা এতোটাই ব্যাপক যে, বাজারের রক্ষী এবং পুলিশ আমাদের খেলনা (যৌন) ভাবে। প্রায়ই এমনটা ঘটে এবং কেউ একে খুব বড় ঘটনা মনে করে না। এমনকি আমরাও বুঝতে পারি না যে, কখন আমরা বিপর্যস্ত হই। কিন্তু আমরা মানুষ এবং আমরা এটি অনুভব করি। ফলে মাঝে মাঝে আপনি রাতের বেলায় কান্না করবেন এবং এটা এটা জানতে পারবেন না কেন আপনি কান্না করছেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য