ইয়েমেনে জোটের বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান পম্পেওরইয়েমেনে লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ।

মঙ্গলবার এ আহ্বান জানিয়ে ওই লড়াই বন্ধে জাতিসংঘের নেতৃত্বে আলোচনা আগামী মাস থেকেই শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক বিবৃতিতে পম্পেও বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের উচিত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করা এবং অবশ্যই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ইয়েমেনের সব জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা বন্ধ করা উচিত।

সবচেয়ে দরিদ্র আরব দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেন অন্যতম। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের কারণে দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখে আছে। এর মধ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির হুতি বিদ্রোহীরা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী ও তাদের সমর্থনদাতা সৌদি আরব, ইউএই ও মিত্রদের সামরিক জোট বাহিনী।

“শত্রুতা বন্ধ করার সময় এখন, এর মধ্যে আছে হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি-র হামলা বন্ধ করা; পরবর্তীতে (সৌদি নেতৃত্বাধীন) সামরিক জোটকেও ইয়েমেনের সব জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে,” বিবৃতিতে বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি দিয়ে ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রশিক্ষণ দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে সহায়তা করে আসছে ওয়াশিংটন। ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহতের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কাজ করছে বলে গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন পম্পেও।

রয়টার্স বলছে, এই মূহুর্তে ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ, প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন; এর মধ্যে ৮৪ লাখ মানুষ এখনই অনাহারের দ্বারপ্রান্তে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইয়েমেন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথস নভেম্বরের মধ্যেই লড়াইরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের সুর শোনা গেল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের কণ্ঠে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ম্যাটিস ইয়েমেনের লড়াইরত পক্ষগুলোকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও মধ্যস্থতার লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আলোচনার মাধ্যমে লড়াই বন্ধে গ্রিফিথসের উদ্যোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন থাকবে বলেও ধারণা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য