ইন্দোনেশিয়ার বিধ্বস্ত বিমানের খোঁজে আরও বিস্তৃত তল্লাশিইন্দোনেশিয়ার উড়োজাহাজটি যে এলাকায় সংযোগ হারিয়ে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে তল্লাশি এলাকার আওতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

বুধবার তল্লাশি এলাকার আওতা আরও ১৫ নটিক্যাল মাইল বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের কর্মকর্তারা, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে জাকার্তার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র ১৩ মিনিট পরই ইন্দোনেশিয়ার বাজেট এয়ারলাইন লায়ন এয়ারের ফ্লাইট জেটি৬১০ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলার পর জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়।

টিন খনির শহর পাংকাল পিনাংয়ের পথে রওনা হওয়া উড়োজাহাজটির কোনো যাত্রী আর বেঁচে নেই এটি এখন প্রায় নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত শুধু কিছু ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। কিন্তু স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ বা দেহাবশেষ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।

উড়োজাহাজটির কাঠামো খুঁজে বের করতে ডুবুরি দলকে সাগরে নামিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি উড়োজাহাজটির ব্ল্যাকবক্সের সন্ধানে সাগরের নিচে অনুসন্ধানকারী ব্লুটুথ রেডিও ট্রান্সমিটার (বিকন) ও ড্রোন মোতায়েন করেছে তারা।

কী কারণে প্রায় নতুন বিমানটি বিধ্বস্ত হল, ব্ল্যাকবক্স পেলে সে সম্বন্ধে ধারণা করা যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদিক প্রায় ৬০ জন ডুবুরিকে রবারের ডিঙ্গি নিয়ে সাগরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাতে দেখেছেন। আরও ৩৫টি জাহাজ তল্লাশিতে সহায়তা করছে। এই এলাকায় সাগরের গভীরতা প্রায় ৩৫ মিটার।

কিন্তু তল্লাশিতে শুধু কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে ৫২টি আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট, ছিন্নভিন্ন আসন, ব্যাগ, জুতা ও ইউনিফর্ম আছে। এসব ধ্বংসাবশেষ জাকার্তা বন্দরে তেরপালের মধ্যে সারি দিয়ে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উয়িদোদো এই এলাকাটি পরিদর্শন করে ধ্বংসাবশেষগুলো দেখে গেছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালিয়ে উদ্ধার করা দেহাংশগুলো ৩৭টি মৃতদেহ রাখার ব্যাগে রাখা হয়েছে। ডিএন পরীক্ষার মাধ্যমে এদের পরিচয় নির্ধারণের জন্য ব্যাগগুলো নিকটবর্তী পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলটি জাকার্তার পূর্বে কারাওয়াং জেলার উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সাগরের ভিতরে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন লায়ন এয়ার জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজটি অগাস্ট থেকে যাত্রী পরিবহন করছিল; চালকদের ১১ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল।

সোমবার উড্ডয়নের কিছু সময় পরই ফ্লাইট জেটি ৬১৯ এর পাইলট জাকার্তায় ফিরে আসার অনুমতি চেয়েছিল বলে জানান তিজাহজোনো।

“ফিরে আসার একটি অনুরোধ ছিল, আমরা তা অনুমোদনও করেছিলাম। ঠিক কী কারণে ওই অনুরোধ ছিল, তা বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা,” সোমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ নিরাপত্তা বিষয়ক প্যানেলের এ প্রধান।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের জরুরি ট্রান্সমিটার থেকে পাঠানো কোনো দূরবর্তী সংকেত পাওয়া যায়নি বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মাদ সিয়াগি।

রোববার রাতেই বালি থেকে জাকার্তা ফেরার পথে ওই বিমানটিকে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ মোকাবেলা করতে হয়েছিল, যদিও পরে তা ‘নিয়মানুযায়ীই ঠিক করা হয়’ বলে জানিয়েছেন লায়ন এয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড স্ট্রেইট।

যদিও কী ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা জানাতে রাজি হননি তিনি। দুর্ঘটনার কারণে তাদের কাছে থাকা অন্য বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ সিরিজের বিমানগুলো ‘নিশ্চল’ করা হবে না বলেও স্ট্রেইট জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য