বঙ্গবন্ধুকে কুটুক্তি করে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মন্তব্য করেন রানীশংকৈল সরকারী প্রাথমিকেরমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: জাতীয়ভাবে পুরস্কার প্রাপ্ত দেশ সেরা বিদ্যাপিট ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াছনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করার অভিযোগ উঠেছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা এবং রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্নভাবে সমালোচনা করেন প্রধান শিক্ষক । এসময় সমালোচনার প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের সাথে অসদআচরণ করাসহ শিক্ষকরা ক্লাশ নেওয়ার সময় শ্রেনী কক্ষের চেয়ার সরিয়ে নেওয়া নানান অভিযোগ পাওয়া গেছে তিনার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮৭৪ জন শিক্ষক সংখ্যা ২০ জন।

গত ১৫ অক্টোবর ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাচঁজন শিক্ষক মিলে উপরোক্ত অভিযোগ গুলোর বিচার চেয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে অভিযোগ অনুলিপি দেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা হলেন বিউটি আক্তার, ছেলিমা, আয়েশা খাতুন, রোকসানা বেগম ও ধীরেন্দ্র নাথ। তাদের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াছমিন মাঝে মাঝেই নিয়মের বাইরে গিয়ে অনেক কাজ করে থাকেন।

এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ্য রয়েছে বিভিন্ন ষ্টাফ মিটিংয়ে তিনি গঠনমুলক আলোচনা না করে ব্যক্তিগতসহ নানান ধরনের রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করে থাকেন।

এগুলোর যারা প্রতিবাদ করেন তাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে আক্রোশ করে থাকেন। এবং যারা প্রতিবাদ করেন না সে শিক্ষকদের তিনি নিজের বলয়ে নিয়ে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন।

সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীরা থাকেন প্রধান শিক্ষকের কোণ ঠাসায় বলে অভিযোগে উল্লেখ্য রয়েছে।

আরো জানাযায় ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষকদের দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। যারা প্রধান শিক্ষকের সব কথায় সম্মতি দেয় তাদের একটি অংশ। অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্বে সমালোচনা করার প্রতিবাদকারীদের একটি অংশ হয়ে রয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরাও এক সময় এমন দ্বন্দে জড়িয়ে যেতে পারেন বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

তবে প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াছমিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্বে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। আমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল্উদ্দীন বলেন, এ অভিযোগটি সরাসরি ডিডি মহোদয়কে দেওয়া হয়েছে।তিনি খুব শিগগির এটির একটি সঠিক ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাও-৩ আসনের সাংসদ ইয়াসিন আলী মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি । তিনি যদি সত্যই এ ধরনের মন্তব্য করে থাকেন তাহলে প্রধান শিক্ষক অন্যায় করেছেন। বিষয়টি গুরত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য