জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলেন লালমনিরহাটের মার্শাল আর্ট-কন্যা সান্ত্বনাআজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার তরুণী মার্শাল আর্ট-কন্যা সান্ত্বনা রানী রায় পেলেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড সম্মাননা। সান্ত্বনা রানী রায় একজন কৃতি তায়কোয়ান্দো (মার্শাল আর্ট) খেলোয়াড়।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ংয়ে ২০তম তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ-এ জয় করেছেন ব্রোঞ্জ পদক। ২০১১ সালে ঢাকায় জাতীয় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েই ছিনিয়ে নেন দ্বিতীয় পুরস্কার। এর ছয় মাস পর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফজিলাতুন্নেছা আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় জয় করেন সোনা।

২০১৪ সালে অংশগ্রহণ করেন নেপালে অনুষ্ঠিত সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায়, যেখানে প্রতিদ্বন্দিতা করে ৩২টি দেশ। সেখানেও ৬৫ কেজি ক্যাটাগরিতে দেশের জন্য সোনা নিয়ে আসেন। ২০১৫ সালের ওয়ালটন-আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে তিনজন বিদেশিকে হারিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি জেতেন আরো একটি সোনা। অতুলনীয় ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং নানা ক্ষেত্রে দক্ষতার ছাপ রাখায় ইতিমধ্যে তিনি দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছেন।

আর এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বব্যাপী তায়কোয়ান্দো খাতে জয় করেছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা। রোববার বিকেলে সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে এই তরুণদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলেন লালমনিরহাটের মার্শাল আর্ট-কন্যা সান্ত্বনাপারিবারিক সূত্র জানায়, ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা সান্ত্বনা রানী আদিতমারীর সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাশ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সুভাষ রায়ের মেয়ে। তিনি ঢাকার বারিধারায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের ছাত্রীদের তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ দেন।

সান্ত্বনা রানী রায় বলেন, দীর্ঘদিন অধ্যবসায় ও অনুশীলনের পর সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি। তিনি ২০০৫ সাল থেকে মার্শাল আর্টের ওপর (কারাতেদো, তায়কোয়ান্দো) পর্যায়ক্রমে রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকায় প্রশিক্ষণ নেন। ২০১১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট পান তিনি।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় দ্বিতীয় ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক লাভ করেন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পান তিনি।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় সপ্তম জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পান। এই প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আরও একটি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংক নবম জাতীয় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা এবং চলতি বছরের এক জানুয়ারি অগ্রণী ব্যাংক চতুর্থ বাংলাদেশ কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় সান্ত্বনা রানী দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

তিনি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইংয়ে অনুষ্ঠিত ২০ তম ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক পান।

সান্ত্বনা রানী রায় বলেন, ‘আমার ধারাবাহিক এ সাফল্য অর্জনে যাঁরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য