দিনাজপুরে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স-এ জেলা প্রশাসকদিনাজপুর সংবাদাতাঃ স্ব-নির্ভর দেশ গড়ে তোলার লক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০১৮ সফলভাবে উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক তত্বাবধানে, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিঃ লীড ব্যাংক হিসেবে এবং দিনাজপুর জেলার সকল ব্যাংকের আয়োজনে ২৭ অক্টোবর শনিবার সকালে দিনাজপুর ইন্সটিটিউট মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণিলভাবে কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। পরে দিনাজপুর শিশু একাডেমী মিলনায়তনে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজনগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ডিএমডি কাজী মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় স্কুল ব্যাংকিং বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন ও কুইজ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর বিরেন্দ্র চন্দ্র দাস।

এছাড়া এতে আরো বক্তব্য রাখেন- সোনালী ব্যাংক লিঃ দিনাজপুর প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সামছুল আলম, অগ্রণী ব্যাংক লিঃ দিনাজপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও জোনাল হেড এস এম মোস্তফা-ই-কাদের, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, দিনাজপুর শাখা ব্যাবস্থাপক সীমান্ত কুমার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিঃ দিনাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার করিম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে ৩৭টি স্কুলের শিক্ষার্থী ও ৩৬ ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপভোগ্য একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে টাক-পয়সা নষ্ট না করে মিতব্যয়ী হতে শেখে, শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ী মনোভাগ গড়ে তুলতে সরকার স্কুল ব্যাংকিং কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। স্কুল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের টিফিন কিংবা রিক্সাভাড়া থেকে পয়সা বাঁচিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা করতে পারে। যা আগে করা যেত না।

ফলে শিক্ষার্থীরা টাকা জমা করার সুযোগ পেত না। এখন সরকার এ সুযোগ দেয়ায় শহরের প্রায় ৬১ ভাগ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এক্ষেত্রে অবশ্য গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে আছে। তাদেরও এগিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। ৬-১৮ বছর বয়সী যে কোন শিক্ষার্থী এ হিসাব খুলতে পারবে এবং টাকা জমাতে পারবে।

তিনি বলেন, আশার কথা হলো- ২০১০ সালে এই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৩ সারের ২৮ অক্টোবর এর নতুন যুগের সুচনা হয়। এ পর্যন্ত সারাদেশে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার। আর এতে জমা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। ৩৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও লীড ব্যাংক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড। এজন্য সবাইকে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করে যেতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য