মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাওঃ সৌদি প্রবাসী এক নারী কর্মীর কন্যা পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনা ঢামাচাপা দিতে গ্রাম্য মাতব্বরদের বিরুদ্ধে শালিসের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাও আবার জরিমানার টাকা বিচারকদের বিরুদ্ধে আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে জনমনে কথা উঠেছে, স্কুল ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৪০ হাজার টাকা।

জানা গেছে,গত ২৪ অক্টোবর (বুধবার) দুপুর ২ টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাও ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত লাখো মোহাম্মদের পুত্র সহিদুল ইসলাম (৫৫) একই গ্রামের ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক নাবালিকাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করে।স্থানীয় ইউপি সদস্য ধর্ষক সহিদুলকে আটক করে রাজাগাও ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে রাখে।

প্রায় তিন ঘন্টা আটক রাখার পর ধর্ষক শহিদুলকে পুনরায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় ওই ইউপি সদস্য । রাতেই গ্রামে বসানো হয় শালিস।শালিসে ইউপি মেম্বার তাহিরুল ইসলাম ধর্ষনের দায়ে ধর্ষককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

এ ব্যপারে ধর্ষিতার পিতা জানান, শালিসে ধর্ষকককে ৪০ হাজারা টাকা জরিমানা করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি এক টাকাও পাননি।

ইউপি সদস্য তাহেরুল ইসলাম জানান,তার চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু ধর্ষক অতিরিক্ত বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের পরামর্শে ঘটনাটি গ্রাম্য শালিসে সমাধান করা হয়েছে।

অবশ্য রাজাগাও ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোশারুল ইসলাম সরকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এ জাতীয় কোন ঘটনার কথা তার জানা নেই।

রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় জানান, চাপাতি এলাকায় শিশু ধর্ষনের কোন অভিযোগ তিনি পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ধর্ষিত পঞ্চম শ্রেণি ছাত্রীর মা বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত আছেন এবং তার বাবা একজন দিনমুজুর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য