হাতীবান্ধায় নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসবআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নদী থেকে ‘বোমা’ (৬ সিলিন্ডার যুক্ত শ্যালো মেশিন) মেশিনের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। শধু তাই নয় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভরাট করা হচ্ছে।

এতে করে ব্রিজ রাবার ড্যাম ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অনেক ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ প্রকাশ্যে চললেও স্থানীয় প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। তাই যে যেমন করে পারছে বালু উত্তোলন করে বিক্রয় করছে। এ যেন বালু উত্তোলনের মহা উৎসব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গড্ডিমারী এলাকায় তিস্তা নদীর ব্লক পেসিং বাধেঁর পাশেই বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ‘বোমা’ মেশিন। সেই মেশিন দিয়ে অনেক গভীর থেকে বালু তুলে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করছে জাহেদুল ইসলাম।

এতে করে একদিকে তিস্তা পাড়ের বাড়িঘর, ফসলী জমি, মূল্যবান বনজ সম্পদ, বাঁধ ও হাতীবান্ধা হাট থেকে ধুবনী গড্ডিমারী হয়ে বড়খাতা যোগাযোগের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈঘ্যের পাকা বাইপাস সড়কটি ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বালু বিদ্যালয়ের জন্য নদী থেকে তোলা হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর ব্লক পেসিং বাধেঁর অনেক দূর থেকে বালু তোলা হচ্ছে।
এতে দোষের কি’।

এদিকে উপজেলার সানিয়াজান ব্রিজ ও রাবার ড্রামের আধা কিলোমিটার অদূরেই(দালালপাড়া গড্ডিমারী ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড) নদীর মাঝখানে বসানো হয়েছে ‘বোমা’ মেশিন। সেই মেশিনের মাধ্যমে অনেক গভীর থেকে উঠে আসছে বালুর পাশাপাশি পাথরও।

এ সময় ওই মেশিন পরিচালনাকারী কলিমুদ্দিন জানান, ‘আমি শ্রমিক হিসেবে এখানে কাজ করছি। মেশিনের প্রকৃত মালিক আরমান। ’

পরে আরমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘স্থানীয় এক বাসিন্দার মাটি ভরাট করতেই বালু তোলা হচ্ছে। এতে পাথর উঠছে না। এক হাজার সিএফটি বালু তিন হাজার টাকা চুক্তিতে নদীতে থেকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, এসব মেশিন দিয়ে প্রায় ১ মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া সুযোগ পেলেই তারা পাথর উত্তোলন করতেছে। আর উত্তোলিত বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিনের মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য