‘হে লৌহিত্য আমার পাপ হরন কর’ এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্যে জগতের যাবতীয় সংকীর্নতা ও পঙ্কিলতার আবরনে ঘেরা জীবন থেকে পাপমুক্তির বাসনায় শত শত হিন্দু পুণার্থী তিস্তা নদে অষ্টমী স্নান করেছে। সনাতন হিন্দুদের ধারনা এ মন্ত্র পাঠ করে তিস্তা নদে স্নান করলে সব পাপ মুক্ত হয়ে আশাতীত পূন্য সঞ্চয় হয়। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মন্দির গুলোতে ভক্তিমূলক গান, বাধ্য বাজনা আর আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অষ্টমী স্নানে অংশ নিয়েছে পূণ্যার্থীরা।
রোববার রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে স্নানোৎসব। গত সোমবার সকাল ৭টা থেকে মানুষের ঢল নামে তিস্তা নদীর স্নানঘাট গুলোতে। সকাল সোয়া ৮টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত উত্তম সময় হওয়ায় এ সময়টাতে নারী পুরুষ, শিশু কিশোর সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভীড় ছিলো উপচে পড়া।
সকালে লগ্ন শুরুর পর পরেই কে কার আগে স্নান করবে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। চৈত্র মাসের অষ্টম তিথিতে পবিত্র নদ তিস্তায় স্নানমন্ত্র পাঠ করে স্নান শেষে নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ভক্তরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরীতকী, ডাব, কলা ইত্যাদি দিয়ে পিতৃকুলের তর্পন করেন। তবে, নদীতে হাটু পানি থাকায় কিছুটা বিড়াম্বনায় পড়েন স্নান করতে আসা লোকজন।
গদাই সার্বজনীন বাসন্তী মন্দীরের সভাপতি মদন সরকার জানান, তিস্তা নদী স্নান করতে এসে যাতে কোন ভক্ত দুর্ভগে না পড়েন সেজন্য এখানে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ পিপিএম জানান, হিন্দুধর্মালম্বীদের অষ্টমী স্নানে আসা লোকদের নিরাপত্তা দিতে থানা পুলিশ সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য