বীরগঞ্জে ঢেপা নদী যৌবন হারিয়ে এখন মরা খালবীরগঞ্জ সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে প্রাননাশী ঢেপা নদী যৌবন হারিয়ে এখন মরা খাল-নব্যতা ফিরিয়ে আনতে খননের গনদাবি জনতার।

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্ত থেকে বয়ে আসা করতোয়া নদীর শাখা আত্রাই নদী থেকে বয়ে আসা ঢেপা নদী আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে এই ঢেপা নদীতে শতশত পাল তোলা নৌকা চলাচল করেছে। নদীতে নৌকা ভরাডুবি হয়েছে অনেক প্রান ঝড়েছে। ঢেপা নদীর অতিত যৌবনকাল ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর এ নদীতে ভেসে আসত হাঙ্গর, কুমির ও জল হস্তিসহ পানি বাহিত জীব-যন্তুসহ বিভিন্ন প্রজাতীর কীট পতঙ্গ।

নদীতে ভাসত পালতোলা নৌকা আর ভাটিয়ালী ও পল্লীগীতি সুরে মাঝি-মোল্লার গান শোনা যেত। দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন ব্যবসার মানুষ নৌকা নঙ্গর করে মালামাল বেচাকেনা করত। তারা নৌকায় রান্না করে ভুড়ি ভোজ করত।

নদী পথে বাগ ভাল্লুক, বান্দর ও হুনুমান নিয়ে খেলা দেখিয়ে টাকা উপার্জন করত এক শ্রেণীর মানুষ আর কাবুল থেকে আসত কাবলী ওয়ালা, তারা মসল্লা জাতীয় দ্রব্য, কাপরসহ ভ্যারাইটিস মালামাল নিয়ে এই বাংলায় বানিজ্য করতে আসতো। তারা নিরিহ বাঙ্গালীদের উপর অত্যাচার-জুলুম করে ও ঠকিয়ে লুটে নিয়ে যেত কোটি কোটি টাকা।

ঢেপা নদীতে ভেসে আসা পালতোলা নৌকা আর বাঁস বেধে নৌকার বেসে দুরদরান্তে ব্যবসা করত মানুষ নদী পথে। দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর যোগাযোগ মাধ্যম ঢেপা নদীর পশ্চিমপাড় থেকে পূর্বপাড় এবং পূর্বপাড় থেকে পশ্চিমপাড় নৌকায় যাতওয়াত করতে হতো। এইতো ২০/২৫ বছর আগে নৌকা ডুবিতে প্রানে বেচে গেছেন পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান ও তার সঙ্গপঙ্গ সহ অর্ধশত মানুষ নৌকা পাড়ি দিয়ে বাড়ী ফিরতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে প্রানে বেচে গেছে।

জনতার দাবির প্রেক্ষিতে চার দলীয় জোট সরকারের সময় ঢেপা নদীর স্লুইজ গেট ও ব্রীজ নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে ঢেপা নদীর স্লুইজ গেট ও ব্রীজ নির্মান করা হয়। বর্তমান প্রজন্মের এই স্থানটি চিত্ত-বিনোদনের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ঈদুল আজহার দিন পযর্ন্ত সপ্তাহ ব্যাপী প্রতিদিন দুরদুরান্ত থেকে মাইক্রেবাস, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কার, মটর সাইকেল পাগলু, অটো বাইক, রিক্সা-ভ্যান, বাই সাইকেল ও পায়ে দলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিত্ত-বিনোদনের স্পট গুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক সিড়া জাতীয় উদ্যান ও ঢেপা নদীর স্লুইজ গেটে দর্শনার্থী শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীদের ও নব-বধুদের উপচেপরা ভীরে কিলবিল করছিল ঢেপা নদীর স্লুইজ গেটের গোটা এলাকা।

পৌরসভার ও ৩নং-ওয়ার্ডের দাসপাড়া, ৪নং-ওয়ার্ডের সুজালপুর ও ৫নং-ওয়ার্ডে মাকড়াই গ্রামসহ কুমারপাড়া এলাকায় বালুচরসহ হাজার হাজার একর জমি নিয়ে এই বিশাল এলাকা জুরে ঢেপা নদীর স্লুইজ গেট অবস্থিত। পরিকল্পনা ছিল মৎস্য চাষ, সেচ ব্যবস্থার ও কৃষি উন্ন্য়ন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কিন্তু গুড়ে বালি কতৃপক্ষের উদাসিনতার কারনে প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে।

বীরগঞ্জ এলাকার সচেতন মহলের দাবি-জাতীয় সংসদ সদেস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপে ঢেপা নদী খনন কাজ পরিচালনা করে নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনা হলে ঢেপা নদীর স্লুইজ গেট প্রকল্প যে উদ্যেশ্যে গ্রহন করা হয়েছিল তার সফলতা ফিরে পাবে।

ঢেপা নদীর পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করে ৫০ কিলো মিটার এলাকার কৃষক সম্প্রদায় হাজার হাজার একর জমিতে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে খাদ্য চাহিদা পুরন, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমিষের চাহিদা পুরনসহ হাজার হাজার জেলে মৎস্য শিকার করে এলাকার চাহিদা ও দেশের চাহিদা পুরনে সহায়ক ভুমিকা পালন করতে পারে। এতে লাখ লাখ কৃষক ও জেলে সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ লাভবান বলে সচেতন মহলের ধারনা।

বীরগঞ্জে ঈদের চতুর্থ দিনে চিত্ত-বিনোদনের স্পট ঢেপা নদীর স্লুইজ গেটে দর্শনার্থী শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীদের ও নববধুদের উপচেপরা ভীড়ে কিলবিল করছে ঢেপা নদীর স্লুইজ গেটের গোটা এলাকা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য