শিশু যৌন নির্যাতন অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমা প্রার্থনাপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বিরল এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স, বিবিসির।

কয়েক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ার ধর্মীয় ও রাষ্ট্রপরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে পাঁচ বছর ধরে চলা তদন্ত শেষ হওয়ার পর এসব ঘটনার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

ধর্মীয় ও রাষ্ট্রপরিচালিত প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা থাকলেও তদন্তে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।

“আজ একটি জাতি হিসেবে শোনার, বিশ্বাস করার ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ব্যর্থতার মুখোমুথি হয়েছি আমরা,” রাজধানী ক্যানবেরায় আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন মরিসন।

“আমরা দুঃখিত। আমরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছি সেই শিশুদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। যাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করা হয়েছে সেই অভিভাবকদের কাছে এবং যারা এই ক্ষত নিরাময়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

“যাদের ছেড়ে আসা হয়েছিল তাদের সামনে নতজানু হয়ে বিনম্রভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত আমাদের,” বলেছেন তিনি।

ভাষণে মরিসন কম্পিত কণ্ঠে নির্যাতিতদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার নিন্দা করেন।

“কেন শিশুদের ও তাদের অভিভাবকদের কান্না অগ্রাহ্য করা হয়েছিল? কেন আমাদের বিচার ব্যবস্থা অবিচারের বিষয়ে অন্ধ হয়ে ছিল? পদক্ষেপ নিতে এতো দীর্ঘ সময় কেন লাগলো?” বলেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ওই তদন্তে গির্জা, স্কুল ও স্পোর্টস ক্লাবের মতো বিভিন্ন সংস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার আট হাজারেরও বেশি জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

মেরিসন এসব ঘটনার বিষয়ে কঠোর নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কিছু নির্যাতিত ব্যক্তি।

অস্ট্রেলিয়ায় সোমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের ভূমিকা আছে এমন গুরুতর অপকর্মের জন্য সংরক্ষিত। এর আগে ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ‘স্টোলেন জেনারেশন্স’ এর সদস্যদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড।

‘স্টোলেন জেনারেশন্স’ এর সদস্যরা শিশু থাকা অবস্থায় পরিবার ও সমাজ থেকে তাদের জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে শ্বেত অস্ট্রেলীয়দের সমাজের অংশ করে নেওয়া হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য