রুশ-মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি থেকে সরছে যুক্তরাষ্ট্রতিন দশক আগে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মস্কো ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি ‘লংঘন’ করায় ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ট্রাম্প, খবর বিবিসির।

ওই চুক্তিতে ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তিন দশক আগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান মিখাইল গর্ভাচেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান চুক্তিটি করেছিলেন।

রাশিয়া অনেক দিন ধরেই চুক্তিটির ‘লংঘন’ করে আসছে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের।

“আমি জানি না কেন প্রেসিডেন্ট ওবামা এটি নিয়ে মধ্যস্থতা করেন নি, কিংবা বেরিয়ে আসেন নি। তারা অনেক বছর ধরে এটি (চুক্তি) লংঘন করে আসছে,” নেভাদায় এক প্রচার সমাবেশে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মস্কো ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে এমন খবর পাওয়ার পর ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তিটি লংঘনের অভিযোগ এনেছিলেন।

চুক্তিটি থেকে সরে আসতে ইউরোপের নেতারা সেসময় তাকে চাপ দিলেও ‘অস্ত্র প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হতে পারে এ আশঙ্কা থেকে’ ওবামা তাতে সায় দেননি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, “বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হওয়ার বাসনায় এককেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্নে তাড়িত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ।”

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া আইএনএফ চুক্তির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নোভাতর ৯এম৭২৯ নামে নতুন একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়েছে। নেটোর কাছে রুশ এ ক্ষেপণাস্ত্রটি এসএসসি-৮ নামে পরিচিত।

নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র মস্কোকে স্বল্প সময়ের নোটিসেই নেটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে হামলার সুযোগ করে দেবে বলে আশঙ্কা ওয়াশিংটনের।

অপরদিকে চুক্তি লংঘনের কথা অস্বীকার ছাড়া নিজেদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে প্রায় তেমন কিছুই বলেনি রাশিয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত বাহিনীর বিপরীতে রাশিয়া এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকেই তুলনামূলক সস্তা বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএনএফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার মূল লক্ষ্য রাশিয়া নয়, চীন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতির কারণেই ওয়াশিংটনের চুক্তি থেকে সরে আসার এ ভাবনা।

আইএনএফে স্বাক্ষরকারী দেশের তালিকায় না থাকার কারণে চীনের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের মস্কো সফরের কথা রয়েছে। ওই সময় মস্কোর সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার কথা রুশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য